ফিরে দেখা ২০২৫

কোচ বিদ্রোহের মধ্যেই জোড়া ইতিহাস গড়ল নারী ফুটবলাররা

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:০৮

ক্যালেন্ডার থেকে আরও একটি বছরের বিদায়ঘণ্টা বাজছে। ২০২৫ সালকে বিদায় করে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বিশ্ব। চলতি এই বছরটি বেশ ঘটনাবহুল ছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবলে। যেখানে বছর শুরুই হয়েছিল কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে সাবিনা-মাসুরাদের বিদ্রোহ দিয়ে। তবে বিদ্রোহের আগুনের মাঝেই নিজেদের সেরা সাফল্য পেয়েছে নারী ফুটবল দল। চলুন এক নজরে দেখে নেই নারী ফুটবলের উত্থান-পতন

বাটলারের বিরুদ্ধে ১৮ ফুটবলারের বিদ্রোহ

২০২৫ শুরুই হয়েছিল বিদ্রোহের আগুন দিয়ে। কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে অভিজ্ঞ নারী ফুটবলারদের দ্বন্দ্ব পুরোনো। তবে ৩০ জানুয়ারি হঠাৎ তা রূপ নেয় বিদ্রোহে। সাবিনা, কৃষ্ণা, সানজিদা ও ঋতুপর্ণাসহ ১৮ জন ফুটবলার কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে এসে কান্না করেন তারা। এই ১৮ ফুটবলার সাফ জানিয়ে দেন বাটলারের অধীনে তারা খেলবেন না। 

শুধু তাই নয়, এই বিষয়ে বাফুফেকে লিখিত অভিযোগও দেন সাবিনা-মাসুরারা। ফেডারেশন ফুটবলারদের চিঠির ভিত্তিতে বিশেষ কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি সভাপতি বরাবর প্রতিবেদন দেয়। একাধিকবার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিদ্রোহ করা ফুটবলাররা।

পরে ফুটবলার ও কোচ দুই পক্ষই কিছুটা নমনীয় হয়। ঋতুপর্ণারা বাটলারের অধীনে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরা, সানজিদা ও সুমাইয়া এই পাঁচজন ফুটবলারকে আর ক্যাম্পে ডাকেননি কোচ বাটলার। এখন পর্যন্ত তারা জাতীয় দলের বাইরে। বর্তমানে তারা ফুটসালে মনোযোগী হয়েছেন।

জোড়া ইতিহাস বাংলার মেয়েদের 

ফুটবলারদের এমন বিদ্রোহের মাঝেই ইতিহাসের সেরা সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। একটি নয়, দু’টি ঐতিহাসিক অর্জন আসে তাদের হাত ধরে। সাবিনা ও মাসুরাদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ছাড়ায় এশিয়ান কাপ বাছাই খেলতে মিয়ানমারে যায় বাংলাদেশ।

সেখানে র‌্যাংকিংয়ে ৫৫ নম্বর অবস্থানে থাকা স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলার মেয়েরা। মিয়ানমারের জালে দু’টি গোলই করেন ঋতুপর্ণা চাকমা।

কোচ পিটার বাটলারের অধীনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। এরপর লাওসে অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল সেরা তিন রানার্স-আপ হয়ে ইতিহাস গড়ে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আফঈদার দল।

একুশে পদক 

২০২৪ সালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এমন অর্জনে ২০২৫ সালের একুশে পদকের জন্য নারী ফুটবল দলকে মনোনীত করে সরকার।

দলের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার গ্রহণ করেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহ-অধিনায়ক মারিয়া মান্দা।

ঋতুপর্ণার রোকেয়া পদক জয়

ঋতুপর্ণা চাকমার জোড়া গোলে ভর করে বাংলাদেশ শক্তিশালী মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারে মতো এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। শুধু এশিয়া কাপই নয়, ঋতুপর্ণার গোলেই গত বছর সাফের ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ক্রীড়ায় নারী জাগরণ সৃষ্টিতে ভূমিকার জন্য ঋতুপর্ণাকে বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে এই পদক গ্রহণ করেন এই তারকা নারী ফুটবলার। 

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বিশাল লাফ 

জুন মাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এর প্রভাব পড়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে। ২৪ ধাপ উন্নতি করে ১০৪ এ উন্নতি করে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। ফিফা র‌্যাংকিং শিরোনামে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে। এটা বাংলাদেশের কখনো আগে হয়নি।

শেষটা নড়বড়ে

এমন সাফল্যময় বছরেও শেষটা নড়বড়ে হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। এশিয়া কাপ নিশ্চিত হওয়ার পর আর জয়ের দেখা পায়নি তারা। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। এই দুই ম্যাচে ৮ গোল হজম করে আফঈদা-ঋতুপর্নারা।

এরপর ঢাকায় উজবেকিস্তান ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ হেরে র‌্যাংকিংয়ে ৮ ধাপ পিছিয়েছে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ইত্তেফাক/জেডএইচ