বিয়ের আসরে কনের বাবাকে হত্যা, ‘প্রেমিক’ গ্রেফতার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩৮

রাজধানীতে বিয়ের আসরে এক যুবকের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন কনের বাবা তুলা মিয়া (৪৭)। আহত হয়েছেন কনের মা ফিরোজা বেগম (৩৫)। তাকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ছুরিকাঘাত করা সজিব আহমেদ রকি (২৩) নামের ‘প্রেমিককে’। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে মগবাজার দিলু রোডের প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশিদ বলেন, কমিউনিটি সেন্টারে ১০/১২ জন সদস্যের উপস্থিতিতে ঘরোয়াভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়। হঠাত্ সেখানে ঢুকে রকি কনের মা-বাবার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হট্টগোল শুরু করে। এক পর্যায়ে রকি কনের বাবা তুলা মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে। কনের মা বাধা দিলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে।

ওসি বলেন, ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন রকিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তাকে পুলিশি হেফাজতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রকি জানায়, বিয়ের কনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমিকার বিয়ে সইতে না পেরে তিনি এমন করেছে। রকির বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায়। সে পরিবারের সঙ্গে মগবাজার বাটার গলিতে থাকে।

ওসি আব্দুর রশিদ আরো জানান, নিহত তুলা মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর। তিনি মগবাজার এলাকার এক বাসার কেয়ারটেকার। রকি পেশায় গাড়ির গ্যারেজ শ্রমিক।  প্রায়ই তুলা মিয়ার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। এ অবস্থায়  বেশ কয়েক মাস আসে তুলা মিয়া মেয়েকে নিজ এলাকায় এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর ছাড়াছাড়ি হয়। পরবর্তীতে রকি আবারও তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। এ অবস্থায় দেড় মাস আগে তুলা মিয়া হাতিরঝিল থানায় রকিকে আসামি করে মামলা করেন।  ঐ মামলায়  পুলিশ রকিকে গ্রেফতার করে।  এক মাস আগে রকি জামিনে ছাড়া পায়। তুলা মিয়া এ অবস্থায় মেয়েকে দ্বিতীয় বার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে  সে এ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে রকি।