গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে পশ্চিমবঙ্গের ডায়মন্ড হারবারে গঙ্গার ভাঙনে জাতীয় সড়কে ধস নামে। প্রায় ৫০০ মিটার রাস্তার অংশ তলিয়ে যায় নদীতে। কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বড়ো একটি অংশের। এই জাতীয় সড়ক দিয়েই ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ, নামখানাসহ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন যায় কলকাতায়। সড়ক ভেঙে পড়ায় কলকাতায় এই অঞ্চলের পণ্য পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কলকাতার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়ে গেছেন মহাবিপাকে।
জানা গেছে, গতকাল ভোরে পানির তোড়ে ডায়মন্ড হারবার জেটিঘাটের কাছে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের বড়ো অংশ গঙ্গায় তলিয়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসেছেন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিকল্প পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের শুরু করার পাশাপাশি শুরু হয়েছে সড়ক মেরামতের কাজ। তবে কবে নাগাদ জাতীয় সড়ক আবার আগের অবস্থায় ফিরবে সে বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। এ ঘটনার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সরকারকেই দায়ী করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। বলেছেন, মাটি যাচাই না করে সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করাতেই এই বিপত্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভারী মেশিনের কম্পনে মাটি সরে গিয়েই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
জানা গেছে, সড়কের ওই জায়গায় ঝুলন্ত বাগান তৈরি হচ্ছিল। গঙ্গার পানির ১২ মিটার ওপরে ঐ বাগান ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে—এমনই পরিকল্পনা ছিল। এজন্য নদীর পানির মধ্যে পিলার বসানোর জন্য গর্ত খোঁড়া হচ্ছিল। উল্লেখ্য, সড়কের ঐ জায়গাটি মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জির ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। কয়েক কোটি রুপি খরচ করে সেখানে গঙ্গার পাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছিল। তার একটা বড় অংশই তলিয়ে গেছে। প্রকল্পের কাজের জন্য রাখা সামগ্রীও জাতীয় সড়কের সঙ্গে চলে গেছে নদীগর্ভে।
