ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গাইবান্ধা ১ ও ২ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টভুক্ত জাতীয় পার্টির (একাংশ) মনোনীত প্রার্থীসহ ৮ জনকে নির্বাচনে অবৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) এবং গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের এই যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।
এতে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জামায়াত ইসলামী প্রার্থী মাজেদুর রহমান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টভুক্ত জাতীয় পার্টির (একাংশ) প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদারসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া বাকি তিনজন প্রার্থী হলেন, ইসলামী আন্দোলনের রমজান আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার ও মোস্তফা মহসিন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ ও খেলাফত মজলিসের এ কে এম গোলাম আযমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকায় গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্রের কাগজপত্র সঠিক না থাকায় জাতীয় পার্টির (একাংশ) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইজনের সমর্থনকারী ভোটারের সংখ্যায় অসংগতি থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র সঠিক না থাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয় এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আইন অনুযায়ী আপিল করতে পারবেন।
বর্তমানে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বৈধ প্রার্থী পাঁচজন হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাসদ মার্কসবাদীর পরমানন্দ দাস, এলডিপির শরিফুল ইসলাম ও আমজনতা পার্টির কাওছর আজম। এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে বৈধ প্রার্থী পাঁচজন হলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল করিম, বাসদ মার্কসবাদীর আহসানুল হক এবং জনতার দলের প্রার্থী শাহেদুর রহমান। এ আসনে মোট ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

