নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা চর কিং ইউনিয়নের আজমার খাল সংলগ্ন মেঘনা মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়েছে প্রায় ৪০ কেজি ওজনের গঙ্গা প্রজাতির একটি কাছিম। বিশালাকার কাছিমটি ঘিরে স্থানীয় জেলেদের মাছে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
মৎস্য অফিস জানিয়েছেন, এটি একটি বিরল ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গঙ্গা কাছিম।
সর্বশেষ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় কাছিমটি মেঘনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের আজমার খাল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে শাহাবুদ্দিন মাঝির জালে কাছিমটি ধরা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি রোববার রাতে জেলেদের নিয়ে আজমার খাল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে জাল ফেলেন। জাল ওঠানোর সময় তিনি ভারি কিছু আটকে আছে বলে অনুভব করেন। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই দেখেন একটি বড় বিরল প্রজাতির কচ্ছপ জালে আটকা পড়েছে। পরে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ কাছিমটি দেখতে খালপাড়ে ভিড় জমায়।
জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি বলেন, ‘জাল তুলতে গিয়ে এত ভারী কিছু আগে কখনো পাইনি। এত বড় কচ্ছপ জীবনে প্রথম দেখলাম।’
জেলা বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল জানান, কাছিমটি নিরাপদে মেঘনা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্য প্রাণী ধরা, সংরক্ষণ কিংবা ক্ষতিসাধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, এই প্রজাতির কাছিম সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এটি একটি বিরল ও প্রায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
