নওগাঁর পত্নীতলায় প্রায় দুই যুগ পর দখলমুক্ত হওয়া সরকারী মৎস্য হ্যাচারিটি অবকাঠামোগত সমস্যা ও অর্থের অভাবে বন্ধ। এতে রেণু উৎপাদন না হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার মৎস্য চাষীরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস ও সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ এলাকায় সহজে মৎস্য রেণু উৎপাদন ও পোনা মাছ সরবরাহের লক্ষে পত্নীতলা সদর নজিপুর পৌর এলাকায় চকনিরখীন মোড়ে হ্যাচারিটি স্থাপন করা হয়। ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ একর ৩১ শতক জমির ওপর হ্যাচারিটি অবস্থিত। একই বছর দুটি বড় ও দুইটি ছোট পুকুর খনন করা হয়। ১৯৯২ সালে ৪০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ হলেও ১৫-১৬ মেট্রিক টন গমের কাজ হয়। অজ্ঞাত কারণে অবিশিষ্ট গম ফেরত যায়। দুইটি পুকুরের খনন কাজ আর শুরুই হয়নি।স্টাফদের বসবাসের জন্য একটি বিল্ডিং নির্মাণ করা হলেও তা বসবাসের অনুপযোগী।
১৯৯৮ সাল থেকে হ্যাচারিটি দখল করে রাখেন স্থানীয় প্রভাবশালী মিসেস আসমা কাজী ও তার স্বামী টুটুল কাজী। হ্যাচারিটি দখল নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ কেটে অবকাঠামো পরিবর্তন করে বিল্ডিং ঘর, পোল্টি শেড তৈরি করে হ্যাচারির মূল্যবান উপকরণ নষ্ট করেন। উপজেলা প্রশাসনের দীর্ঘ চেষ্টার পর ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে হ্যাচারিটি দখলমুক্ত করা হয়। এর পর থেকে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে অত্র এলাকায় মাছ চাষের ব্যাপক সারা জেগেছে মৎস্য চাষীদের মধ্যে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা হয়। সরকারী মৎস্য হ্যাচারিটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও পোনা মাছ উৎপাদন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে, সরকার ব্যাপক রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, সরকারি মৎস্য হ্যাচারিটি দীর্ঘ সময় ধরে বেদখলে ছিল। এখন দখলমুক্ত করা হয়েছে। হ্যাচারিটির সীমানা প্রাচীর ও কমপ্লেক্স ভবন নেই। পুকুর গুলো খনন করতে হবে। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় আমরা হ্যাচারিটি চালাতে পারছি না। চালুর জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মৎস্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এটি পুর্ণাঙ্গরূপে চালু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, দখলমুক্ত হওয়া হ্যাচারিটি চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/অনি
