রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে কাজ করে, তাই তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা থাকা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই) বাস্তবায়ন ও সংস্কারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ‘তথ্য অধিকার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ নামে একটি নতুন মোর্চার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। এই প্ল্যাটফর্মটির মূল লক্ষ্য হলো তথ্যের অধিকারকে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চার একটি অবিচ্ছেদ্য ও আপসহীন অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
সুশাসনে স্বচ্ছতা আনয়ন এবং নাগরিকদের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশে সর্বসম্মতিক্রমে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ পাস হয়েছিল। এই আইনের মাধ্যমে নাগরিকগণ সরকারি কাজে তদারকি করার এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখার আইনি তদারকির অধিকার অর্জন করেন।
রিইব-এর চেয়ারম্যান ড. শামসুল বারী মনে করেন, তথ্য অধিকার আইন সরকারি কর্মকর্তাদের নজরদারি করার জন্য নাগরিকদের কাছে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সভায় বক্তারা আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার এবং জবাবদিহিতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের ভিত্তিতে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম (এমবিই) জানান, এই প্ল্যাটফর্মটি তথ্যের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনবে এবং কর্তৃপক্ষকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে। তবে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানানো হয় যে, দেশে বর্তমানে তথ্য কমিশনার নিয়োগ না থাকায় মফস্বল ও গ্রাম পর্যায়ে এই আইনের ব্যবহার চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে এবং আবেদনকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সঙ্গে আলোচনা সত্ত্বেও তথ্য কমিশনার নিয়োগ ও আইন সংস্কারের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সভায় আরও উপস্থিত রেজাউর রহমান লেলিন বলেন, তথ্য গোপন রাখা আমাদের দেশে একটি সাধারণ সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে প্রতিটি সরকারই তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে এক ধরনের অনিহা প্রকাশ করে। অন্যদিকে শাহীন আনাম আক্ষেপ করে বলেন, আইন প্রণয়নের আগে যে উৎসাহ ছিল, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই অবজ্ঞা লক্ষ করা যাচ্ছে।
সভায় এমআরডিআই-এর হাসিবুর রহমান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সম্মিলিতভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তথ্য কমিশনার নিয়োগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানান।
