ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিটি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফোন কল না থাকাকে দায়ী করেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জনপ্রিয় মার্কিন পডকাস্ট ‘অল ইন’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক এই তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান যে, চুক্তির সমস্ত কারিগরি বিষয় ও শর্তাবলী চূড়ান্ত হয়ে আলোচনার টেবিল প্রস্তুত থাকলেও প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন না করায় শেষ পর্যন্ত চুক্তিটি সই হয়নি। লুইটনিকের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন এক নতুন কূটনৈতিক জটিলতায় আবর্তিত হচ্ছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন যে, ভারতকে এই চুক্তিটি সম্পন্ন করার জন্য তিন সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তিনি নিজে আলোচনার সবকিছু গুছিয়ে রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি অলিখিত শর্ত ছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ফোন করে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে হবে।
কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিকতা পালনে দ্বিধা প্রকাশ করা হয় এবং মোদি ফোন করেননি। লুটনিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের চুক্তির ধরন অনেকটা ‘সিঁড়ির’ মতো; অর্থাৎ যারা সবার আগে চুক্তি করবে, তারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। ভারত সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেছে।
ভারত যখন পরবর্তী সময়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ওয়াশিংটনে ফিরে আসে, ততক্ষণে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে গিয়েছিল। লুটনিক জানান যে, ভারত যখন পুরোনো শর্তে চুক্তি করতে চায়, তখন তিনি তাদের সাফ জানিয়ে দেন যে সেই সময় আর নেই এবং ‘ট্রেন অনেক আগেই স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে’।
ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলেছে। ভারতের বিলম্বিত সিদ্ধান্তের ফলে ওয়াশিংটন তাদের জন্য প্রস্তাবিত আগের শর্তাবলী পরিবর্তন করে আরও কঠোর অবস্থানে চলে যায়।
বাণিজ্যিক এই টানাপোড়েনের প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপিত রয়েছে, যার অর্ধেকই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে দণ্ডস্বরূপ দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যেই রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন যে, ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি নতুন বিলে সায় দিয়েছেন। এই বিলটি কার্যকর হলে রুশ জ্বালানি তেলের ক্রেতা দেশ হিসেবে ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা পাবেন ট্রাম্প। ফলে সঠিক সময়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় ভারতের বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাত এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
