বরেণ্য চিত্রশিল্পী মাহমুদুল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৩২

বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মাহমুদুল হকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১১ জানুয়ারি)। এ উপলক্ষ্যে রামপালের শ্রীফলতলায় তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ‘আমাদের গ্রাম’ ক্যান্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় কোরআন খতম, দোয়া অনুষ্ঠান ও মাদ্রাসায় খাবার বিতরণ করা হয়।

তার স্মরণ সভায় সুদূর জাপান থেকে শিক্ষার্থীরা আসেন প্রিয় স‍্যারকে শ্রদ্ধা জানাতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ডিপার্টমেন্টসহ দেশের বরেণ্য শিল্পীবৃন্দ মরহুমের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শিল্পীর সহধর্মিণী শিখা মাহমুদ ও সন্তান সাদাত ইবনে মাহমুদ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। 

উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি মারা যান দেশ-বরেণ্য এ চিত্রশিল্পী। মাহমুদুল হকের জন্ম ১৯৪৫ সালে রামপালের শ্রীফলতলা গ্রামে। তিনি ১৯৪৮ সালে তৎকালীন সরকারি চারু ও কারু কলা কলেজ (এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) থেকে বিএফএ এবং পরে জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএফএ ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি ছাপচিত্র বিষয়ে জাপান থেকে ২ বছরের উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০১০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ছাপচিত্র বিভাগের প্রধানসহ চারকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং পরে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে বিদেশে শিল্পী মাহমুদুল হকের শিল্পকর্মের ৩৯টি একক এবং অনেক যৌথ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে জাপানের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার অর্ডার অব দ্য রাইজিং সান লাভ করেন।

এছাড়া জাপানের সুচিউরা সিটি শ্রেষ্ঠ চিত্রকলা পুরস্কার, ১৯৯২ সালে ১০ম জাতীয় শিল্পকলা প্রদর্শনীতে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার’, ১৯৯৩, ১৯৯৫ ও ১৯৯৭ সালে টানা তিনবার এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীতে সম্মানসূচক পুরস্কার, কুয়েত আন্তর্জাতিক দ্বিবার্ষিক প্রদর্শনীতে দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের ‘সুলতান পদক’সহ দেশে বিদেশে অনেক পদক ও পুরস্কার লাভ করেন। দেশে জাতীয় চিত্রশালা, জাতীয় জাদুঘরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগ্রাহক এবং বিদেশের অনেক চিত্রশালায় তার শিল্পকর্ম সংগৃহীত হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএএস