সাঁকো পাড়ি দিয়ে যেতে হবে ভোটকেন্দ্রে— এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নে একটি ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে এবং পূর্বের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চরভাগা পাইকবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন। এসময় তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। 

বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনে চরভাগা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১১৩ নম্বর পাইকবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই কেন্দ্রটি বাতিল করে ১৪২ নম্বর মুনসুর নগর হাজী আব্দুল গফুর খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র ১৪২ নম্বর মুনসুর নগর হাজী আব্দুল গফুর খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সরু রাস্তা বেয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রান্তে বিদ্যালয়টির অবস্থান। মাঝখানে একটি কাঠের সাঁকো পার হতে হয়। নির্বাচনি মালামাল পরিবহন ও ভোটগ্রহণ শেষে তা নিয়ে ফেরার ক্ষেত্রে প্রশাসনকে চরম বেগ পেতে হতে পারে বলে দাবি এলাকাবাসীর। তাছাড়া আগের কেন্দ্র থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে নতুন কেন্দ্রের অবস্থান হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে পূর্বের ভোটকেন্দ্র ১১৩ নম্বর পাইকবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইউনিয়নের কার্পেটিং সড়কের পাশে অবস্থিত। ইউনিয়নের সব গ্রামের সঙ্গে এ বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় ভোটারদের জন্য এটি অধিক সুবিধাজনক বলে জানান স্থানীয়রা। এ কারণে তারা ভোটকেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ভোটার আমজাত মোল্যা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাইকবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই সংসদ নির্বাচনের ভোট হয়ে আসছে। কেন্দ্রটি সড়কের পাশেই, যাতায়াতও সহজ। অথচ নতুন কেন্দ্রটিতে যেতে ভাঙা রাস্তা ও সাঁকো পার হতে হয়। তাছাড়া সেই কেন্দ্র যে গ্রামে অবস্থিত, সেই গ্রামে মাত্র দেড়শ থেকে দুইশ’ ভোটার রয়েছেন। বাকি সব ভোটারই সাঁকোর এপারে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের দাবি—ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র বাতিল করে আগের কেন্দ্রটি পুনর্বহাল করা হোক।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক বলেন, মানববন্ধনের বিষয়টি আগে জানতাম না, আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। তবে কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী বর্তমান ভোটকেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমাকে জানিয়েছে। আমি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে অবহিত করেছি। কমিশন থেকে নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এপি