শীতে মশার উপদ্রব বেশ বেড়ে যায়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসে বহু লোক আক্রান্ত হয়। ফলে বছর জুড়েই ছিল মশার আতঙ্ক। মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কচুরিপানা পরিষ্কার, মশার ওষুধ, সরঞ্জামাদি কেনাসহ প্রভৃতি কাজে ৫০-৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এর সিংহভাগ খরচও করা হয় প্রতিবছর। তবে সুফল পায় না নগরবাসী। এবছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে হাজার হাজার নগরবাসী। জীবনও হারাচ্ছেন অনেকে। অন্যদিকে শীতের শুরুতে এবার রাজধানীতে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়েছে। এ নিয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী।
নগরবাসী বলছেন, রাজধানীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহরূপ ধারণ করেছে। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সর্বত্রই মশার উপদ্র্রব। দিনের বেলা চায়ের দোকান কিংবা খোলা জায়গাও মশায় কামড়ায়। কয়েল জ্বালিয়ে, ওষুধ ছিটিয়ে, মশারি টানিয়ে মশার উপদ্রব থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না। দিনে বাচ্চাদের মশারি টানিয়ে ঘুম পাড়াতে হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মশক নিধনে এলাকাবাসী কাউন্সিলর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানালেও কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে জানান তারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রামপুরা, বনশ্রী, মেরাদিয়া, গোড়ান, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মগবাজার, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা, ফকিরাপুল, আরামবাগ, পল্টন, মতিঝিল, কমলাপুর, মানিকনগর, বাসাবো, মুগদা, খিলগাঁও, ধোলাইখাল, কুড়িল, মীর হাজীরবাগ, শ্যামপুর, কামরাঙ্গীরচর, সূত্রাপুর, হাজারীবাগ এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি। ওইসব এলাকার বেশকিছু জায়গা ঘুরে দেখা যায়, বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল থেকে শুরু করে চলন্ত গাড়িতেও মশায় কামড়ায়।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এবার আগাম বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে মশার উপদ্রবও বেড়েছে। মশা নিধনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে (৯৫৫৬০১৪) যোগাযোগ করলে বাড়ি গিয়ে মশার ওষুধ ছিটিয়ে আসবে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এছাড়া ডিএসসিসির এক নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা (০১৭১২৯৪৭৩৭৬), দুই নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা (০১৭১৬০০৮৮৩৮) ও তিন নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা (০১৭১২২৬৯২৯২) নম্বরে যোগাযোগ করে এই সেবা নিতে হবে।
ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বর্ষা ও শীত মৌসুমে সাধারণত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। কারণ এসময় তাপমাত্রা কম থাকে। এবার আগাম বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে মশার উপদ্রবও বেড়েছে। আমরা একাধিকবার ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নেওয়ার কারণে এই ঝুঁকি থেকে বের হয়ে এসেছি। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এখন তাপমাত্রা কমে আসার কারণে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়েছে। সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ জনবল দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই। কেউ ফোন করলে বাসায় গিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হবে।
মশার উপদ্রব থেকে রাজধানীর বাসিন্দাদের রক্ষায় দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর মশা নিধনের জন্য বরাদ্দ রাখে। বরাদ্দ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নিধন খাতে বরাদ্দ বাড়লেও কমছে না মশার উপদ্রব। সিটি করপোরেশনের গত পাঁচ বছরের বাজেটের চিত্র বলছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বরাদ্দ বেড়েছে ১৩৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জানা যায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ রেখেছে ৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিনসিসি) ২১ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। তবে চাহিদার আলোকে মশক নিধন কাজ করার জন্য সরঞ্জামাদির মারাত্মক সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক মেশিন অকেজো হয়ে গেছে। অথচ সরঞ্জামাদির উন্নয়ন ও জনবলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করণে সংস্থার কোনো উদ্যোগ নেই।
