ক্রিকেট নিয়েই নিশ্চিত ছিলেন না স্মিথ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৩

প্রায় পনেরো মাস হলো—টেস্ট ক্রিকেট খেলেন না। এর মধ্যে ১২ মাস সব ধরনের ক্রিকেটেই নিষিদ্ধ ছিলেন। এই রকম দুঃসময় পার করে ফেরা এক জনের ওপর ভরসা করা কঠিন। কিন্তু সেই মানুষটি তো আর সাধারণ একজন নন; তিনি সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান স্টিভেন স্মিথ।

এজবাস্টনে সেই স্মিথ প্রমাণ করে দিলেন অভিজ্ঞতার মূল্য। ১২২ রানে অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে খেললেন অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। তার ১৪৪ রানের ওপর ভর করে সেই অস্ট্রেলিয়াই অলআউট হওয়ার আগে ২৮৪ রান করল। স্মিথ আরেকবার প্রমাণ করলেন তার মূল্যটা।

দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্মিথ বলছিলেন, তার অবশ্য এমন ইনিংস খেলা দূরে থাক, আর কখনো ক্রিকেট খেলা হবে কি না, এ নিয়েই সন্দেহ ছিল। নিষেধাজ্ঞার সময়টাতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) যখন ইনজুরিতে পড়লেন, তখন মনে হয়েছিল, ক্রিকেট ছেড়ে দেবেন। ভাগ্যিস সেটা হয়নি।

নিজের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাটা মনে করে স্মিথ বলছিলেন, ‘গত ১৫ মাসে বেশ কয়েক বার এমন হয়েছে যে, আমি ঠিক নিশ্চিত ছিলাম না, আর কখনো ক্রিকেট আদৌ খেলব কি না। একটা সময় আমি খানিকটা ভালোবাসা হারিয়ে ফেলেছিলাম। বিশেষ করে আমার যখন কনুইতে অস্ত্রোপচার করাতে হলো। এটা খুব খারাপ সময় ছিল। তবে যে দিন আমি কনুইয়ের বন্ধনীটা খুলে ফেললাম, সে দিন মনে হলো—ভালোবাসাটা আবার ফিরে পেয়েছি। এটা কেমন ব্যাপার, আমি বলে বোঝাতে পারব না। তবে আবার খেলার ইচ্ছেটা ফিরে আসল। আমি তখন চাচ্ছিলাম, আবার মাঠে নামব এবং আবার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলব।’

সেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাদা পোশাকের ফেরাটা যে এমন নাটকীয় হবে, সেটা স্মিথও কল্পনা করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ফিরেই আরেকটা সেঞ্চুরি যখন পেয়ে গেলেন, সেই মুহূর্তটা নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না। এমনকি দিনশেষেও খুব আবেগী হয়ে পড়লেন সময়টা স্মরণ করে, ‘আমি আসলেই বুঝতে পারছিলাম না, কি করতে হবে। এটা একটা লম্বা সময় পর ফেরা। আমি স্রেফ... আমি আসলেই জানি না। আমি এই মুহূর্তে আসলে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি শুধু গর্বিত যে, দল যখন বিপদে পড়েছিল, তখন আমি কিছুটা অবদান রাখতে পেরেছি। অবশ্যই ইংল্যান্ড অসাধারণ বল করেছে। আমাদের জন্য কাজটা খুব কঠিন ছিল। আমি শুধু গর্বিত যে, আমি লম্বা সময় পর্যন্ত ব্যাট করে যেতে পেরেছি।’

স্মিথ এখন আর দলের অধিনায়ক নন। সেটা আর কখনো হবেন বলেও মনে হয় না। তারপরও তিনি বলছিলেন, একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে এমন ইনিংস খেলা তার কর্তব্য, ‘অবশ্যই আমার হাতে এখন আর সেই বাহুবন্ধনীটা নেই। এটা ঠিক আছে। আমি মনে করি টিম গত ১৮ মাস এই দলটা নিয়ে দারুণ করেছে। আমার জন্য ব্যাপারটা হলো—আমি এখন অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড়। আর ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা যাতে তাদের ভূমিকাটা পালন করে এবং মাঠে যাতে প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগায়, সেটা সবাই চায়। ভাগ্যবশত আমি আজ সেটা করতে পেরেছি।’