দেড় যুগ পর ইসলামের গলায় মিলন-মালা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪০

প্রেম করে বিয়ে করেন মো. ইসলাম ও মালা। পরে স্ত্রীর গর্ভে আসে সন্তান। কিন্তু কিছুদিন যেতেই সেই স্ত্রী ও গর্ভের সন্তানকে অস্বীকার করে বসেন ইসলাম। এরপর ডিএনএ টেস্টে সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হয়। তবুও ইসলাম স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় ১৮ বছর আগে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দেড় যুগ আইনি লড়াইয়ের পর স্ত্রীর মর্যাদা পেলেন ঝিনাইদহের মালা। আর সন্তানের মর্যাদা পেলেন মিলন। 

আদালতের নির্দেশে বুধবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ঝিনাইদহের ইসলাম ও মালার দ্বিতীয় দফায় বিয়ে সম্পন্ন হয়। মো. ইসলাম ঝিনাইদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে। মালার বাড়িও একই গ্রামে। বর্তমানে তিনি কারাগারে বন্দি। যদিও মালাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে দ্বিতীয় দফায় বিয়ে করায় হাইকোর্ট ইসলামের জামিন দিয়েছেন। তিনি এখন মুক্তির অপেক্ষায়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবু তালেব বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইসলাম আদালতে জামিন আবেদন করেন। আদালত শর্ত দেন মালাকে স্ত্রী ও মিলনকে সন্তানের স্বীকৃতি দিলে জামিন দেওয়া হবে। আদালতের শর্তে ইসলাম রাজি হন। এরপর আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিয়ের কাবিন বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে জমা দেন। এরপর আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে এখনও আদেশের কপি এসে পৌঁছায়নি। কপি পেলে মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে।

জানা যায়, ঝিনাইদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মেয়ে মালার সঙ্গে একই গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্থানীয় মৌলভীর মাধ্যমে ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তারা বিয়ে করেন। পরে মালা গর্ভবতী হন। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারির মালার গর্ভ থেকে জন্ম নেন ছেলে মিলন। মালার সঙ্গে বিয়ে ও ছেলের পিতৃত্বের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানালে মালার বাবা ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। এই মামলায় বিচারিক আদালত ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলাম আপিল করলে রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। 

এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেখানেও ইসলামের সাজার রায় বহাল রাখেন। পরবর্তীতে আপিল রিভিউ আবেদন করেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইসলাম। ইসলামের করা রিভিউ শুনানিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে মালা ও মিলনের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে আনেন।

আরও পড়ুন: ঈদের আগে গাইবান্ধায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে: রেলমন্ত্রী

আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল আপিল বিভাগকে বলেন, মালা ইসলামেরই স্ত্রী। আর মিলন যে ইসলামের সন্তান সেটা হাইকোর্টের আদেশের পর ডিএনএ রিপোর্টে প্রমাণিত। এরপর বুধবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মালা-ইসলামের মধ্যে পুনরায় বিয়ে হয়। সেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রি (কাবিনও) হয়। এরপর আপিল বিভাগ ইসলামকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। আগামী ২৯ আগস্ট এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। 

ইত্তেফাক/অনি