ভোলার রাজাপুরে টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে গ্যাস

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০১৯, ২১:২২

ভোলা সদরের রাজাপুরে টিউবওয়েল ও ডোবা থেকে উঠছে প্রাকৃতিক গ্যাস। স্থানীয়রা দিয়াশলাই ও মোমবাতি দিয়ে গ্যাসে আগুন জ্বালিয়ে আনন্দ করছে। কেউ কেউ টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হওয়ার ভয়ে টিউবওয়েল ও মাটিতে বসানো পাইপ উঠিয়ে গর্ত ভরাট করে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। এমন ঘটনা ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরসুলতানী গ্রামে। সরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গ্যাস উঠানোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

সরজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন টিউবওয়েলে গড় গড় শব্দ শোনা যেত। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় মাসে দেড় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে দিনটি শ্যালো টিউবওয়েল জন্য পাইপ বসালে সেখান থেকে পানি প্রবল বেগে উঠতে থাকে এবং তারা গন্ধ পায়। টিউবওয়েল শ্রমিকদের কাছে বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তখন পাইপ থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। এ ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পরে টিউবওয়েল শ্রমিকরা ঐ বাড়ির মালিককে গ্যাসের বিষয়টি জানান।

ঐ এলাকার জমাদ্দার বাড়ির আজিজুল রহমান জমাদ্দার জানান, আমার বাড়ির পাশে পুকুরে পানি অনেক সময় শুকিয়ে যায়। তাই গোসল ও ধোয়ার কাজে অনেক কষ্ট হয় পারিবারের লোকজনদের। এজন্য এ রোজার দুই দিন আগে একটি শ্যালো টিউবওয়েল বসানোর সিদ্ধান্ত নিই। কলশ্রমিকরা মাটিতে ২৫ ফিট পাইপ বসালেই পানি প্রবল বেগে উঠতে থাকে। এছাড়া পানি থেকে একটি গন্ধ বের হতে থাকে। আমরা গ্রামের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারিনি। কিন্তু শ্রমিকদের বিষয়টি সন্দেহ হলে তারা পাইপের সামনে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। তখন তারা আমাকে জানান, এখানে গ্যাস আছে। আমি অনেক ভয় পাই। তাই তাদের অন্য স্থানে কল বসানোর জন্য বলি। সেখানেও পাইপ বসালে একই ঘটনা ঘটে। এখন টিউবওয়েল ওভাবেই পড়ে রয়েছে। আমরা গ্যাসের ব্যবহার জানি না। আর এ সম্পর্কেও জ্ঞান নেই।

একই এলাকার ব্যাপারী বাড়ির সাইফুল ব্যাপারী জানান, গত এক মাস আগে তিনি তার বাড়ির উঠানে একটি শ্যালো টিউবওয়েল বসান। শ্রমিকরা চলে গেলে টিউবওয়েল থেকে গড় গড় শব্দ ও গন্ধ বের হতে থাকে। তখন তারা ভয় পান। তার এক ছোটো ছেলে কলশ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা আগুন জ্বালিয়ে দেখতে বলে। তাদের কথা মতো আগুন জ্বালিয়ে দিলে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। এ সময় সাইফুল ব্যাপারী ভয়ে তার টিউবওয়েলের পাইপ বের করে ফেলে। তার পরও শব্দ ও গন্ধ বের হলে গর্তে মাটি ও বালু দিয়ে চাপা দিয়ে দেয়। তাতেও শেষ হয় না।

হানিফ বয়াতি জানান, গত ১৫ দিন আগে শ্যালো টিউবওয়েল বসালে সেখান থেকেও গ্যাস বের হচ্ছে। আমরা গ্রামের মানুষ গ্যাস কী জিনিস সেটা জানি না। এলাকার লোকজন বাড়িতে এসে ঐ টিউবওয়েলে আগুন ধরিয়ে আনন্দ করে।

তিনি আরো জানান, তার বড়ো ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। সে ঢাকায় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পেরেছে, ঐ গ্যাস দিয়ে রান্না করা যায়। এবার ঈদে এলে ছেলে রান্না করার জন্য পাইপ বসাবে।

আরেক স্থানীয় মো. ফরিদ মিয়া জানান, আমাদের গ্রামের এ গ্যাস সরকারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা দরকার। যদি এখানে প্রচুর গ্যাস পাওয়া যায়, তাহলে এ গ্যাস উত্তোলন করে আমাদের গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে রান্নার জন্য লাইন এবং ঐ গ্যাস দিয়ে শিল্প-কলকারখানা গড়ে এলাকার বেকারত্ব দূর করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান জানান, গ্যাস ওঠার বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া গ্যাসের মাত্রা দ্রুত পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, আমরা বিষয়টি জেনেছি। সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা সরজমিনে বিষয়টি দেখছেন। আমরা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠাবো। তখন মন্ত্রণালয়ে থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, আমি সরজমিন ঘুরে এসেছি, ধারণা করছি মিথেন গ্যাস জাতীয় কোনো গ্যাস হবে। এটি বড়ো কোনো গ্যাসের খনি নয়।

ভোলার বোরহানউদ্দিন ও সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকায় দুটি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। যার থেকে বাণিজিকভাবে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। রাজাপুরের চরসুলতানী গ্রামে গ্যাসের মজুদ যদি নিশ্চিত থাকে, তাহলে এটা নিয়ে ভোলা জেলায় তিনটি গ্যাস ফিল্ড হবে।