কুষ্টিয়ায় ১১ বছরেও সম্পন্ন হয়নি মন্দিরের উন্নয়ন কাজ, অর্থ লোপাটের অভিযোগ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৭

কুষ্টিয়ায় টেকসই কাঠামোতে নির্মিত সনাতনীদের পুরতান একতলা মন্দির ভেঙ্গে দুইতলা ভবনবিশিষ্ট নতুন স্থাপনা নির্মাণ অসম্পন্ন রেখেই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অসম্পন্ন কাজসহ পুরো প্রকল্পটি বাতিলে বিপুল অংকের টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে মন্দির কমিটির দায়িত্বরতদের অভিযোগ। এদিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে মন্দির কমিটির সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার অতি সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১২/১৩ অর্থ বছরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সনাতনীদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শ্রী শ্রী গোপিনাথ জিউর মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনসহ সরকারি অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হয়। মন্দিরের পুরাতন ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার পর টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করে কয়েকটি প্যাকেজভুক্ত প্রকল্পের কাজ পান ৪/৫ জন ঠিকাদার। তবে কাজ শুরুর আগে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ও কাজের মেয়াদসহ পুরো কাজের বিবরণ সংবলিত সাইবোর্ড স্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। কংক্রিট ঢালাইয়ের বিম-কলামের উপর দুইতলা ভবনবিশিষ্ট মন্দির স্থাপন করা হলেও অধিকাংশ কাজ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারা কাজ পুরো কাজ গুটিয়ে নেয়। 

এছাড়া মন্দির কমিটির কাছে হস্তান্তর ছাড়াই কাজ অসমাপ্ত রেখে পুরো প্রকল্পটি বাতিলের পর সটকে পড়েন ঠিকাদাররা। অসমাপ্ত কাজের মধ্যে মন্দিরের প্রবেশ পথে তিনটি বড় আকারের কাঠের দরজা,পানি নিষ্কাশনে মন্দিরের দুই পাশে ড্রেন, নীচ তলায় দুটি ও দুইতলার ছাদে স্থাপিত একটি বড় গম্বুজসহ দুইতলার চারটি ওয়াশ রুমে টাইলস স্থাপন করা হয়নি। পাশাপাশি মন্দিরের সামনের অংশে ফিনিশিং কাজটিও বাদ রয়েছে।  

এদিকে নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহারে দোতলার দেওয়ালে ধরেছে ফাটল। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় জানা না গেলেও আনুমানিক ১৩/১৪ কোটি ধার্য্য ছিল বলে মন্দির কমিটির সদস্য সুভাস চন্দ্র রায় জানান। 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানান, ‘ফাইলটি এখন খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তা খুজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
 
মন্দিরের অপর সদস্য অরুন কর্মকার জানান, ‘প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে প্রকল্পটি বাতিল করে বিপুল টাকা লোপাট করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণ কাজেও নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের তদন্ত দাবী করেন তিনি।   

এদিকে চলতি বছরের ৯ নভেম্বর মন্দির কমিটির সভাপতি বিজন কুমার কর্মকার লিখিত অভিযোগে জানান, ১৩/১৪ কোটি প্রাক্কলিত ব্যয় ধার্য্যে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ ১০/১১ বছর আগে মন্দির উন্নয়ন প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। কিন্তু উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত না করেই মাঝপথে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সনাতনীদের মধ্যে অসন্তোষের পাশাপাশি মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। যথাশীঘ্র সম্ভব প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে শিলালিপি প্রতিস্থাপনসহ কমিটির কাছে মন্দির হস্তান্তরে জোর দাবী করেন তিনি।
 
কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল মৈত্র জানান, ‘প্রকল্পটি আমার সময়কালের নয়। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অসমাপ্ত কাজ  নিষ্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।’

 

 

ইত্তেফাক/কেএইচ