মাস্তুল ফাউন্ডেশন আয়োজিত যাকাত কনফারেন্স ২০২৬ 

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:০৯

আগামী ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ (শনিবার) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে মাস্তুল ফাউন্ডেশন ও আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যাকাত কনফারেন্স–২০২৬’।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মাস্তুল ফাউন্ডেশন এবং আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে সপ্তম বারের মত অনুষ্ঠিত হয়েছে যাকাত কনফারেন্স ২০২৬। যেখানে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ইসলামিক স্কলারগণ, সরকারী একাধিক উপদেষ্টা,সচিব ও কর্মকর্তাবৃন্দ, সমাজসেবীরা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, ডক্টরগণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর সকল দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত হয়েছেন।

দিনব্যাপী এই কনফারেন্সটি তিনটি সেশনে আয়োজিত হয়। তিনটি সেশনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ডঃ আ ফ ম খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ মাহবুব-উল-আলম,পরিকল্পনা কমিশন ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ইসলামিক স্কলার,ও সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ ড্যাফোডিল এর পরিচালক শায়খ প্রফেসর ড. মোঃ মোখতার আহমাদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর আরবী বিভাগের অধ্যাপক শায়খ প্রফেসর ডক্টর মোঃ ইমাম হুসাইন, শরিয়াহ এডভাইজরি এন্ড রিসার্চ কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান  শায়খ মুফতি মাসুম বিল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন  ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মহাপরিচালক  আঃ ছালাম খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এর সচিব সাইদুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর উপ সচিব  এ বি এম সাদেকুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক কালাম উদ্দিন বিশ্বাস, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহা পরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া (এন ডি সি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসেফিক এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মোঃ শামসুল আলম, কে জি এস এম গ্রুপ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোয়ার হোসেন মইনুল, ফ্রেবিক লাগবে লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, ডে টেম্পেটে লিমিটেড আইটি সলিউশন এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর কামরুল হাসান, বি টি আই লিমিটেড এর ডিরেক্টর ফাইজুল রহমান খান। এছাড়াও বিশেষ ইসলামিক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর মুহাদ্দিস ড. মুফতী ওয়ালীয়ুর রহমান খান,জামিয়া মাহমুদিয়া এর প্রধান মুফতি শায়খ রেজাউল করিম আবরার, শায়খ মুুফতি আহসানুল ইসলাম(সি এস এ এ), শায়খ মুফতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ নবিসহ প্রমুখ।

যাকাত কনফারেন্স ২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক উন্নয়নে যাকাতের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা। একই সঙ্গে যাকাতের ফরজিয়ত ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যাকাতের শুদ্ধ অনুশীলন ও প্রসার, যাকাতের হিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ, আধুনিক প্রেক্ষাপটে যাকাতের প্রয়োগ, যাকাত বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। 

কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন— “যাকাত আহরণ, সুষ্ঠু বিতরণ এবং মানবসেবায় মাস্তুল ফাউন্ডেশন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, তা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এ অনুপ্রেরণার কারণেই অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও আমি এই কনফারেন্সে উপস্থিত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, “দারিদ্র্য যদি কোনো রাষ্ট্রের ওপর চেপে বসে, তাহলে সে রাষ্ট্র কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সঠিকভাবে যাকাত আহরণ ও বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে আমরা একটি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পারি। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পাশে থেকে দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সহযোগিতা কামনা করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন”

ইসলামিক স্কলার,ও সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ ড্যাফোডিল এর পরিচালক শায়খ প্রফেসর ড. মোঃ মোখতার আহমাদ বলেন- “প্রতি বছর আমরা যখন ব্যক্তিগতভাবে যাকাত প্রদান করি, তখন অনেক সময় একই ব্যক্তিকেই বারবার যাকাত দেওয়া হয়। কিন্তু যাকাত যদি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আদায় ও বিতরণ করা হয়, তাহলে প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন মানুষ যাকাতের আওতায় আসার সুযোগ পায় এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাতকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাচ্ছে, যার ফলে প্রতি বছর নতুন নতুন মানুষ যাকাতের সহায়তায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে যা খুবি প্রশংসনীয় উদ্দোগ”

মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, কাজী রিয়াজ রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন— "আমাদের প্রতিটি কাজ শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টির জন্য। মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রতিনিয়ত যাকাত তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমাজের যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি সঠিক নিয়মে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যাকাত আদায় করেন, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য একদিন অবশ্যই দূর হবে ইনশাআল্লাহ।”

আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশন, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও,  মিনারাত ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং রেডি গ্লোবাল সলিউশনসহ অনেকেই এ কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশ ও ২০২৩ সাল থেকে দেশের বাহিরে মানবিক সেবার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৪ সালে গাজা ও ২০২৫ সালে সুদানের সংকটের সময়ে তারা দ্রুত এবং জরুরি সহায়তা-খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী-পৌঁছে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের ভেতরে দারিদ্র্য নিরসনে তাদের সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার স্কিলসহ নানামুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প "যাকাত স্বাবলম্বী" এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এতিম শিশু এবং প্রবীণদের জন্য নির্মাণাধীন শেল্টার হোম কমপ্লেক্স প্রকল্পটি ভবিষ্যতের প্রতি মাস্তুলের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মেহমানখানায় দৈনিক বিনামূল্যে খাবার বিতরণ থেকে শুরু উল্লেখ্য,সরকারি নিবন্ধিত ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

ইত্তেফাক/আইএ