অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল ফার্মিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত নিরাপদ, পুষ্টিকর ও পরিবেশবান্ধব খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে রাজধানীর লালমাটিয়ায় ‘সুপণ্য’-এর প্রথম আউটলেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল কৃষি পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যই পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিলোত্তমা বাংলা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং গাজীপুরে তিলোত্তমা অর্গানিক কৃষি খামারের প্রতিষ্ঠাতা জোয়ারদার নওশের আলী, এফসিএ। তিনি এই খাদ্য আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, “বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল পদ্ধতিতে চাষের বিকল্প নেই। অন্যথায় আমাদের আবাদি জমির উর্বরতা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।” তিনি এই পদ্ধতিকে কেবল অর্গানিক নয়, বরং ‘বিয়ন্ড অর্গানিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব মো. সেলিম রেজা, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পার্টনার প্রকল্পের কনসালট্যান্ট ড. মাহবুবুর রহমান, সানোয়ার হোসেন (এআইপি), প্রাকৃতিক খাদ্য বিশেষজ্ঞ শহীদ আহমেদ, খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম, বেসরকারি সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)-এর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ওয়েব ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মহসীন আলী এবং বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ বাতেন খান।
বক্তারা বলেন, অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল ফার্মিং একটি বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি, যেখানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার, কীটনাশক বা ক্ষতিকর যৌগ ব্যবহার না করে একটি জমির বাস্তুতন্ত্রের জীব (Biotic), জড় (Abiotic) ও ভৌত (Physical) উপাদানের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা হয়। এতে মাটির স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য, উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজনন প্রক্রিয়া এবং প্রাকৃতিক খাদ্য শৃঙ্খল অক্ষুণ্ন থাকে। ফলে এটি পরিবেশের ক্ষতি না করেই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তারা আরও বলেন, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যে পুষ্টি উপাদান প্রাণরাসায়নিক ও জিনগতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এসব খাদ্য মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কম, বর্জ্য কম সৃষ্টি হয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
বক্তারা বলেন, বর্তমান যান্ত্রিক জীবনে অনিরাপদ, প্রসেসড ও রাসায়নিকযুক্ত খাদ্য গ্রহণের কারণে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘সুপণ্য’-এর মতো উদ্যোগ মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বলেন, ‘সুপণ্য’ শুধু একটি খাদ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি সুস্থ জীবনধারা ও সচেতন খাদ্য আন্দোলনের অংশ।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ‘সুপণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল কৃষি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং সুকৃষি ও সুপণ্যের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অবদানের প্রশংসা করেন বক্তারা। একই সঙ্গে আউটলেট স্থাপনে বিশেষ ভূমিকার জন্য বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ বাতেন খানের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সভাপতি ও প্রধান অতিথি যৌথভাবে ফিতা কেটে ‘সুপণ্য’-এর প্রথম আউটলেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও আউটলেট স্থাপনের মাধ্যমে অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল পদ্ধতিতে উৎপাদিত নিরাপদ, পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত খাদ্য সবার জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সুপণ্য তার কার্যক্রম সম্প্রসারণ করবে।
