যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আপাতত বিশ্বকাপকে রাজনীতির বাইরে রাখতে চায়। ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি সরাসরি বলেছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ বয়কট করার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা সরকারের নেই।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার আগ্রাসী বক্তব্য দেওয়ার পর ইউরোপের একাধিক দেশ এর বিরোধিতা করে। এই বিরোধিতার জেরে ফ্রান্সসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এই ইস্যু ঘিরেই ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিশ্বকাপ বয়কটের দাবি ওঠে।
ফ্রান্সের বামপন্থি রাজনীতিবিদ এবং সংসদের অর্থবিষয়ক কমিটির প্রধান এরিক কোকরেল মন্তব্য করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশ, যারা প্রতিবেশী ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেয় এবং আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে, তাদের দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা কল্পনাও করা যায় না। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব কেড়ে নেওয়া উচিত। এই বক্তব্যের জবাবে ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি সংযত অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো ইচ্ছা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ভিন্নমত উঠে আসছে। তার মতে, খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখাই শ্রেয়।
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেন ফরাসি কোচ ক্লদ লে রয়। ফরাসি দৈনিক ফিগারোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফ্রিকা মহাদেশের প্রতি আচরণ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দেওয়া প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। ফ্রান্সের অবস্থানের কয়েক ঘণ্টা আগেই জার্মান সরকার বিষয়টি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। জার্মানির ক্রীড়া বিষয়ক রাষ্ট্রীয় মন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ানে শেন্ডারলাইন এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানান, বড় ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণ বা বয়কটের সিদ্ধান্ত রাজনীতিকদের নয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থা এবং ফেডারেশনগুলোর।
এই প্রেক্ষাপটে ফিফার ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। এমনকি গত ডিসেম্বর বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো একটি বিশেষ 'ফিফা পিস প্রাইজ' চালু করে ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে ক্রীড়াঙ্গন ও রাজনীতির সীমারেখা আবারও প্রশ্নের মুখে।
একদিকে আন্তর্জাতিক আইন, ভূরাজনৈতিক হুমকি ও নৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন। অন্যদিকে খেলাধুলাকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখার ঐতিহ্যগত দাবি। ফ্রান্স সরকার আপাতত বিশ্বকাপকে কেবল একটি ক্রীড়া উৎসব হিসেবেই দেখতে চায়।

