রংপুরে পুলিশ হেফাজতে মামুন নামে এক ‘মাদক কারবারির’ মৃত্যুর অভিযোগ এনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মামুন পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকের চারটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সর্বশেষ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত মামুনের মরদেহের সুরতহাল করা হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে মামুন মিয়ার মেয়ে মুন অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার এসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচজন সাদা পোশাকের পুলিশ নগরীর চিকলি ভাটার বাড়ি থেকে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মোবাইল ফোনে জানানো হয়, আমার বাবা মামুন মিয়া মারা গেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, সুস্থ এবং পরিষ্কার শরীরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও হাসপাতালে তার শরীরে বালুচাপা দেওয়ার মতো অবস্থায় পেয়েছেন তারা। পুলিশ নির্যাতন করে তাকে মেরে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নগরীর মেডিকেল মোড়ে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ২টার দিকে মরদেহ নিয়ে অবরোধ করে স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা অভিযুক্ত এসআই মনিরুল ইসলামসহ অন্যদের বিচার দাবি করেছে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কোতোয়ালী থানার ওসি শাজাহান আলী। এ সময় বিক্ষুব্ধরা তাকেসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। মরদেহের সুরতহাল হয়েছে। ময়নাতদন্ত করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সকালে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, পরিস্থিতি শান্ত আছে। মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করতে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা বলা সম্ভব নয়।
