স্পোর্টস রিপোর্টার
ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ার পর আর মিরপুর স্টেডিয়াম মুখী হতে দেখা যায়নি বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে।
পিঠের ব্যথার কারণে ছিটকে পড়া সাইফউদ্দিন নিয়মিতই আসছেন মিরপুর স্টেডিয়ামে। রিহ্যাবের কাজ করছেন তিনি।
বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাশরাফি-সাইফের সেরে উঠতে সময় লাগবে। আঘাতের দিন (১৯ জুলাই) থেকে মাশরাফির সময় লাগবে দেড় মাস। সাইফউদ্দিনের বোলিং বন্ধ রাখা হয়েছে তিন সপ্তাহের জন্য। তবে বিসিবির এই অভিজ্ঞ শল্যবিদের আশা, চলতি মাসের শেষের দিকে বোলিং শুরু করতে পারবেন মাশরাফি-সাইফ।
মাশরাফির ইনজুরির সর্বশেষ জানতে চাইলে দেবাশীষ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা তাড়াহুড়ো না করে একটু সময় নিচ্ছি। তার সঙ্গে যতটুকু কথা হয়েছে, তার দৈনন্দিন চলাফেরায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তার মানে ওর রিকভারি ভালো হচ্ছে। তবু আমরা আঘাতের পর থেকে ২১ দিন ওকে বিশ্রামে থাকতে বলেছি, যাতে করে ব্যথা ফিরে আসে এমন কোনো কাজ সে না করে। এরপরে ওর পুনর্বাসন, ফিজিওথেরাপি ও এক্সারসাইজ একসঙ্গে শুরু করব। আপাতত আমরা আশা করছি আঘাতের দিন থেকে দেড় মাস সময় লাগবে।’
চলতি মাসের শেষ দিকে মাশরাফি সুস্থ যাবেন বলে আশা বিসিবির প্রধান চিকিত্সকের। তিনি বলেছেন, ‘আঘাতের দিন থেকে মোটামুটি দেড় মাস মানে আগস্টের শেষ দিকে আশা করছি মাশরাফি পুরোপুরি ফিট হয়ে যাবে।’
হ্যামস্ট্রিংয়ের এই ইনজুরির জন্য তিন সপ্তাহ বিশ্রামে থাকলেই হয়। কিন্তু মাশরাফি একই জায়গায় দ্বিতীয়বার ব্যথা পেয়েছেন। তাই সময়টা বেশি লাগছে। দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘মাশরাফির ক্ষেত্রে আমরা ধারণা করছি এটা একটা রি ইনজুরি। একই চোট ও আবার পেয়েছে। অতএব সেক্ষেত্রে পুনর্বাসন ও সেরে উঠার সময়টা দীর্ঘ হবে।’
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে নিয়ে তাই চিন্তাটা চিকিত্সকদের অনেক বেশি। বিসিবির প্রধান চিকিত্সক বলেন, ‘আমরা আরো বেশি চিন্তিত, ওর এই ইনজুরিটা তৃতীয়বারের মতো যেন না হয়। অর্ধেক সেরে উঠে যদি খেলায় ফিরে আসে তাহলে আবার ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত দেখা দেখা যায় একটা মাংসপেশি যদি তিনবার একই জায়গায় আঘাত প্রাপ্ত তাহলে এই মৌসুমটা সে খেলতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তার জন্য আমাদের পরিকল্পনা হলো—তৃতীয়বার যেন আঘাত না পায় সেটা আমাদের তাকে নিশ্চিত করতে হবে।’
সাইফউদ্দিনের জন্য ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে যাচ্ছে বিসিবি। বোলিংয়ের কারণে সৃষ্ট ব্যথা বলে, তার বোলিংয়ের মাত্রা ঠিক করে দেওয়া হবে। দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘ওর ওয়ার্ক লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। ও প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে, মাসে, প্রতি মৌসুমে কতগুলো বল করবে প্রত্যেকটা জিনিস আমাদের একটা পরিকল্পনার আওতায় আসবে। এখন ওর বোলিংটা তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ রেখেছি। রিকভারির জন্য। ব্যাটিং চলছে, রানিং, সুইমিং চলছে। আশা করছি আগস্টের শেষের দিকে আমরা ধীরে ধীরে বোলিংয়ে ফিরে আসব।’
