টানা তিনদিনের প্রাণবন্ত আয়োজন শেষে সফলভাবে সমাপ্ত হলো ভৈরবী গীতরঙ্গ দলের উদ্যোগে আয়োজিত গীতরঙ্গ উৎসব। গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই উৎসবজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত, যা এই আয়োজনকে করে তোলে স্মরণীয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় মিথিলা চনু’র মনিপুরী নৃত্যের মাধ্যমে সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এ বছরের আয়োজন উৎসর্গ করা হয় গুণী শিল্পী ফরিদা পারভীনকে। অনুষ্ঠানে দীপ্ত সেন পরিবেশন করেন খাঁচার ভিতর অচিন পাখি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভৈরবীর উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজ। এরপর মিথিলা, ইয়াশনা ও কণা পরিবেশন করেন একটি লোকনৃত্য।
সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় নাটক ‘সোনাই’–এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন, রচনা ও নির্দেশনায় ইলিয়াস নবী ফয়সাল। মঞ্চায়নের সময় হল ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। নাটকে উদাস চরিত্রে অভিনয় করেন তীর্থ এবং সোনাই চরিত্রে কানিজ। ইচ্ছে চরিত্রে ছিলেন পারমিতা, সূত্রধর হিসেবে ধ্রুব ও কণা। এছাড়া অভিনয়ে অংশ নেন মিথিলা, অতনু, আয়রা, অর্পিতা বিশ্বাস, রম্য, ইনানসহ আরও অনেকে। আবহ সংগীতে ছিলেন দীপ্ত সেন, অর্পিতা ঘোষ, তোমো, স্বপ্নীল, পিনাকী, জিসান, জিতু, ফাহিম ও রাজশ্রী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন মেহনাজ, রিয়া, জেনিন, মহসিন ও আফনানুল হাসান।
উৎসবের সূচনা হয় ৩১ জানুয়ারি চলচ্চিত্র হীরক রাজার দেশে প্রদর্শনীর মাধ্যমে। দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয় গীতল সন্ধ্যা, যেখানে বাংলার সাত কিংবদন্তি শিল্পীর জীবন ও সৃষ্টির আখ্যান তুলে ধরা হয়। তিনদিনের প্রতিটি আয়োজনেই দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে দেশীয় নাট্য ও গীতরঙ্গের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনও গভীর।
নির্দেশক ইলিয়াস নবী ফয়সাল বলেন, গত তিনদিন দর্শকদের ভালোবাসা ও অংশগ্রহণ আমাদের নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এই উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশীয় সাংস্কৃতিক ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমরা চাই ভৈরবী এর আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে তরুণদের কাছে।
