‘খুন ও গুম হওয়া’ গৃহবধূ উদ্ধার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৮

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

পুলিশের তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের সুবাদে যৌতুকের জন্য ‘স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার’ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক ব্যক্তি ও তার বৃদ্ধা মাসহ ৫ জন। পুলিশ দীর্ঘ ৪ মাস চেষ্টার পর কসবা থেকে কথিত গুম ও খুন হওয়া সেই গৃহবধূ সেলিনা আক্তারকে শরীয়তপুরের নড়িয়া হতে গতকাল শনিবার জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করলে অভিনব এক প্রতারণার ঘটনা প্রকাশিত হয়।

পুলিশ, মিথ্যা মামলার আসামিগণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বিষ্ণাউড়ী গ্রামের মো: জাকির হোসেনের মেয়ে সেলিনা আক্তারের সাথে একই গ্রামের আবু ছায়েদ মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলামের ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলেমেয়ে। ছোট ছেলে সাইমন অসুস্থ হলে এ বছরের ৫ এপ্রিল ঢাকার শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে স্বামী সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সেলিনা আক্তার দ’ুজনই ছেলের সঙ্গে ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন সময়ে সেলিনা আক্তারের সঙ্গে পরিচয় হয় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি শরীয়তপুরের নড়িয়া থানা এলাকার আল-আমিন নামে এক যুবকের। গত ১৮ এপ্রিল সেলিনা হাসপাতালে তার শিশুটিকে রেখে আল-আমিনের হাত ধরে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে সেলিনা আক্তারের বাবা জাকির হোসেন ২০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে তাঁর মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে সেলিনার স্বামী সাইফুল ও তাঁর বৃদ্ধ মাসহ ৫জনকে আসামি করা হয়।

গতকাল শনিবার বিকালে কসবা থানায় সেলিনা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় আল-আমিনের হাত ধরে শরীয়তপুর গিয়েছেন। সেখানে সামাজিকভাবে ২ লাখ টাকা দেনমোহরে আবার বিয়ে করেছেন। তবে প্রথম স্বামীকে তিনি তালাক দেননি। সেলিনার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম কসবা থানায় সেলিনা আক্তারের সামনেই বলেন, হাসপাতালে শিশুটিকে ফেলে সে পালিয়ে গেছে। অথচ মিথ্যা মামলার কারণে বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে।