নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দিন: আজহারি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০২

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি। একই সঙ্গে তিনি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আজহারি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচনকে শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে নয় বরং জাতির গতিপথ নির্ধারণের একটি বড় অনুষঙ্গ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ পর সাধারণ মানুষ তুলনামূলক ভালো নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র সক্রিয় হতে পারে। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে সচেতনতা ও সংযমের সঙ্গে। মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন সহিংসতা বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়—সে দিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিভাজনে সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে আজহারি বলেন, মতের অমিল থাকতেই পারে কিন্তু অসম্মান, ঘৃণা কিংবা সম্পর্ক ভাঙার রাজনীতি কাম্য নয়। যুক্তিসংগত আলোচনা হতে পারে তবে ভিন্নমতকে তুচ্ছ করা যাবে না। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই একটি মানবিক সমাজের ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও বাশিংমুক্ত রাজনীতি দেখতে চায়। চেতনা বিক্রি ও দোষারোপের রাজনীতির অবসান চায় জনগণ। রাজনীতিবিদদের উচিত প্রতিপক্ষকে আক্রমণ না করে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা। জনগণই শেষ পর্যন্ত যোগ্যতার বিচার করবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আজহারি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঠারো কোটি মানুষ একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন প্রত্যাশা করে। পেশাদারিত্ব ও পক্ষপাতহীনতা বজায় রাখলে তা দেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট একটি আমানত। যেমন কোনো আমানতের ক্ষেত্রে সততা ও জবাবদিহিতা জরুরি তেমনি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিবেক ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। তাই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে এবং সৎ প্রার্থীকে সমর্থন দিতে হবে।

পোস্টের শেষে তিনি বলেন, জনসমর্থনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবেন সবাইকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ জনগণ ছাড়া কোনো নেতৃত্বের পক্ষেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এসজেএস