ভেষজ

লেবুতে এত উপকার

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:১০

 

সুগন্ধেই হতে হবে মোহিত। রসে ভরা। ঘ্রাণেই যেন খাবারের আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। তার নাম লেবু। পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রচুর ভিটামিন সি আছে। জ্বর, কাশি, ক্ষুধামন্দা, বমিনাশক। কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে দুবেলা পান করলে মেদ কাটে।  লেবু, মধুপানি খুব জনপ্রিয়। ফ্যাট কাটাতে এর জুড়ি নেই। লেবু রুচি বাড়ায়, কৃমিনাশক।  গরম ভাতে বা ডালের সঙ্গে কাগজি লেবুর রস অমৃত। কাগজি লেবুর আচারও খেতে সুস্বাদু। ১০০ গ্রাম লেবুতে ভিটামিন সি আছে ৬৩ মিলিগ্রাম, যা আপেলের চেয়ে ৩২গুণ এবং আঙ্গুরের দ্বিগুণ। ক্যালসিয়াম আছে ৯০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ১৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি .১৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২০ মিলিগ্রাম, লৌহ .৩ মিলিগ্রাম।

রূপচর্চায় লেবু বিভিন্নভাবে ব্যবহার হয়।  লেবুর রস মাথায় দিলে খুশকি দূর হয়ে চুলের গোড়া মজবুত করে। রূপলাবণ্য ধরে রাখতে লেবুর জুড়ি নেই। ঠোঁট ফেটে যায়। শুষ্করাতে ঘুমাতে যাবার আগে লেবুর রস ঠোঁটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। লেবুর রসে আছে সাইট্রিক অ্যাসিড। যা ত্বকের তেলতেলে ভাব ঘুচিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করে। বলিরেখা অনেকেরই মাথাব্যথার কারণ। লেবুর রস পনেরো মিনিট দিয়ে রাখলে বলিরেখা দূর হয়। ডাবের পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক মসৃণ, কোমল ও উজ্জ্বল হয়। অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে লেবুর রস লাগালে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে যায়। নাকের ওপর ব্ল্যাক হেড। কী বিশ্রী ব্যাপার। লেবুর রস নাকে লাগিয়ে বসে থাকুন। পরে ঘষা দিলে ব্ল্যাক হেড উঠে যাবে। মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে তুলার সাহায্যে গালে লাগালে গাল উজ্জ্বল হয়। গাজরের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে লাগালে ব্রনের দাগ দূর হয়ে যায়।

লেবুর খোসায়ও আছে প্রচুর উপকারী উপাদান। যেমন ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, পেকটিন, ফাইবার, মিনারেলস। লেবুর খোসা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় খাবার ভালো হজম হয়। অন্ত্র পরিষ্কার থাকে। এর পেকটিন অন্ত্রের শর্করা শোষণ করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক। লেবুর খোসা খেলে শর্করা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিপাক ভালো হয়। যা ডায়বেটিক রোগীরদের উপকারে আসে।  লেবুর খোসায় ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুবই দরকারি। প্রতিদিন অল্প একটু লেবু খেয়ে ভিটামিন সি-এর চাহিদার ৩০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। ভরপেট খেলেন। বেশ অস্বস্তি লাগছে। গরম পানিতে একটু লেবুর রস খেলে পাকস্থলিতে কিছু গ্যাস তৈরি হলেও তা চলে যাবে। বেশ আরামবোধ করবেন। হালকা গরম পানিতে লেবুর রস খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরের টক্সিন বেরিয়ে যায়।  এতে লিভারও ভালো থাকে।

লেবুতে অনেক উপকার আছে বটে। তবে বেশি খেলে অপকারও হতে পারে। লেবুর সাইটি্রক অ্যাসিড দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয় করতে পারে। লেবুপানি খেয়ে দাঁত মাজা ভালো। অতিরিক্ত লেবু খেলে বমিবমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। ভিটামিন সি প্রয়োজন। তবে বেশি হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন ১২০ মিলিলিটার লেবুর রস খাওয়া যাবে।