মানিকছড়ি-লক্ষ্মীছড়ি সড়কে ব্রিজ নির্মাণকাজে ধীরগতি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৫

জনভোগান্তি চরমে
 লক্ষ্মীছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে ছয়টি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্মাণে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত ব্রিজগুলোর নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে সাত নাম্বার প্যাকেজে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সেতু নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রানা বিল্ডার্স কনস্ট্রাকশন লি. কে কার্যাদেশ দেয়। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত একটি সেতুর কাজও শতভাগ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তার বেশ কয়েক স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণকাজ শেষ করা না হলে পুরো রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

জেলার দীঘিনালা ও মহালছড়ি সড়কে একই প্যাকেজে আরো কয়েকটি সেতু নির্মিত হচ্ছে বলে জানান খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম। লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে বাস্তবায়নাধীন বক্স কালভার্টসহ ছয়টি সেতুর কাজ চলছে। প্রতিটি সেতুর প্রস্থ ধরা হয়েছে ১২.৫০ মিটার। লক্ষ্মীছড়ি থানা সংলগ্ন ধুরুং নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটিই সবচেয়ে বড়ো যার দৈর্ঘ্য ১০০ মিটার। বাকি ব্রিজগুলো ৩০ মিটার থেকে ৬০ মিটারের মধ্যে। ঐ ব্রিজগুলো বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে ১৮ মাস থেকে ২৭ মাস। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে তা শেষ হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুুন মাসে চূড়ান্ত বাস্তবায়ন কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল চৌধুরী বলেন, দ্রুত ব্রিজগুলো নির্মাণ না হওয়ায় জনগণের ভোগান্তি বাড়ছে। একমাত্র সড়ক যোগাযোগের পথ লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে ছয়টি ব্রিজ দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।

ব্রিজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারের নিজস্ব প্রকৌশলী তন্ময় আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শক্রমেই নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে। কাজে অনিয়ম হচ্ছে না দাবি করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হবে বলে জানান তিনি।