পানি সংকটে পাট নিয়ে বিপাকে কৃষক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৭

কেশবপুর (যশোর) ও মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় যশোরের কেশবপুরে চাষিরা পাট পচাতে পারছেন না। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাবে খাল, বিল, ডোবা, নালায় পানি না থাকায় কৃষকরা এ সমস্যায় পড়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষক পাট কেটে স্তূপ করে রেখে দিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৫ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়। সেই হিসেবে চলতি বছর ৫ হাজার ৫ হেক্টর জমি পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ধানের দরপতনের কারণে এ উপজেলার কৃষকরা পাট আবাদে ঝুঁকবে বলে কৃষি বিভাগ মনে করলেও খরার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

শুক্রবার সকালে উপজেলার মজিদপুর, বাগদা গ্রামের বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা পাট কেটে জমির পাশের গাছে স্তূপ করে রেখেছেন। কোনো কোনো কৃষক তার খেতের উত্পাদিত পাট নসিমনে করে প্রায় দুই/তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে খাল বা ডোবায় জাগ (পচন) দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বাগদা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি চলতি বছর ছয় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। আমন ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে পাট কেটে পচনের জন্যে ডোবায় জাগ দিয়েছেন। কিন্তু পানি না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে স্যালো মেশিন দিয়ে ডোবায় পানি দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, এখন পাট কেটে আমন ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে।

মধুখালীতে বিপাকে কৃষক

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও এগারটি ইউনিয়নের কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির অভাবে পাট পচাতে পারছেন না। পৌরসভার পাট চাষি আক্কাস আলী ও আকরাম জানান, এখনো জমিতে পাট দাঁড়িয়ে আছে আবার কিছু কিছু পাট শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আবার কোনো কোনো চাষি হাঁটু পানিতে অল্প জায়গার মধ্যে বেশি পরিমাণ পাট জাগ দিয়ে পচানোর ফলে পাটের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে কম মূল্যে পাট বিক্রি করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাব মণ্ডল বলেন, এ বছর পাটের উত্পাদন ভালো হয়েছে। উপজেলার একটি এলাকায় পানি না পাওয়ার কারণে পাট জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পানির সমস্যা থাকবে না। আর বিকল্পভাবে পাট পচানোর জন্য তিনি পাট অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

তিনি জানান,  চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মধুখালী উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে। আর পাটের আবাদ হয় ৮ হাজার ৩৪৬ হেক্টর জমিতে।