উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে উখিয়ায় মসলা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মাবলম্বী মুসলিম পরিবারে কোনো না কোনোভাবে কোরবানির মাংস যাবে। তখন প্রয়োজন হবে আদা, হলুদ, পিঁয়াজ রসুনসহ গরম মসলার। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু মৌসুমি ব্যবসায়ী ফুটপাতে মসলার দোকানে পসরা সাজিয়ে বসেছে। এদের বিক্রীত বেশির ভাগ মসলা ভেজাল ও খাবার অনুপযোগী হলেও গরিব ক্রেতা সাধারণ সেখানে ভিড় করতে দেখা গেছে। তারা বলছে, কোরবানির সুযোগে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ফায়দা লুটছে। এ ব্যাপারে তারা জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উখিয়ার হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে আমদানিকৃত চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও একই আদা বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। কেজি প্রতি এত টাকা ব্যবধান কেন জানতে চাওয়া হলে খুচরা ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। তাই তাদেরকেও সামান্য পরিমাণ লাভবান রেখে দাম আদায় করতে হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিমত—পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করলে একদিনেই মসলার দাম কমে আসতে পারে। বাজারে উপস্থিত বেশ কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানান, ফুটপাতে যেসব গরম মসলার দোকার বসানো হয়েছে এসব গরম মসলা এমনিতেই খাওয়ার অনুপযোগী। তারপরও ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে।
গরম মসলার দাম উঠা-নামার ব্যাপারে উখিয়ার থ্রি ব্রাদাস ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক সিরাজ সওদাগরের সঙ্গে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, রাস্তা বেহাল হওয়ার কারণে মালবাহী যানবাহন উখিয়া আসতে চায় না। তথাপি তাদেরকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কোরবানির মালামাল নিয়ে আসতে হয়েছে। এছাড়াও লোড-আনলোডসহ অন্যান্য খরচাপাতি সামলিয়ে সহনীয় দরদামে মসলা বিক্রি করা হচ্ছে; কিন্তু বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম আদায় করার কারণে গোটা ব্যবসায়ীকে দুর্নামের ভাগি হতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা নিকারুজ্জান চৌধুরী জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করে মরিচ, মসলা, আদা, রসুনের দোকানগুলো মনিটরিং করার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
