বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নূতন সরকারের গুড বিগিনিং বা শুভসূচনা হইয়াছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নূতন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীগণ অফিস করিতে শুরু করিয়াছেন। তাহারা গণমাধ্যমকে নানা আশাব্যঞ্জক কথাবার্তা বলিতেছেন। নূতন সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহের বন্ধের দিন শনিবারেও অফিস করিবার প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই মুহূর্তে পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক রাখিবার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা হইয়াছে। সকল মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে রাখিবারও নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হইল, নয়া প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেই জনসাধারণের কষ্ট লাঘবে 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রকল্প চালু করিবার নির্দেশ দিয়াছেন। আর তাহার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলিয়াছেন যে, মব সন্ত্রাসের দিন শেষ। সকল মিলাইয়া নূতন সরকারের শুরুটা ভালো হওয়ায় জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়া আসিয়াছে।
গত দেড় বৎসরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হইয়াছে। তাহার পরও মব ভায়োলেন্সসহ নানা কারণে জনমন হইতে ভয় ও ভীতি দূর করা সম্ভব হয় নাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের চার প্রকারের ফ্রিডম বা স্বাধীনতা রক্ষা করিবার উপর জোর দেওয়া হয়। যথা: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (Freedom of Expression), ধর্ম পালনের স্বাধীনতা (Freedom of Religion) ভয় ও দারিদ্র্য হইতে স্বাধীনতা (Freedom from Fear and Want) এবং চলাফেরার স্বাধীনতা (Freedom of Movement)। তাহার মধ্যে ভয়ভীতিহীন জীবনযাপন ছাড়া কোনো নাগরিকের অধিকার পূর্ণ হইতে পারে না। উন্নয়নশীল দেশসমূহে মানুষের চাওয়াপাওয়া আসলে খুবই সামান্য। তাহারা কে ক্ষমতায় আছেন বা আসিবেন, তাহা লইয়া অধিকাংশ সময় তেমন মাথা ঘামান না। তাহাদের মূল চিন্তা হইল জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা ও জানমালের নিরাপত্তা বিধান। নূতন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ধীরে ধীরে সমাজ হইতে ভয় ও ভীতি দূর হইতে শুরু করিয়াছে, ইহাই এই মুহূর্তে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ব্যবসায়-বাণিজ্য ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও ইহার ইতিবাচক প্রভাব পড়িবে নিঃসন্দেহে। সরকারের দায়িত্বে যাহারা রহিয়াছেন তাহারা আস্তে আস্তে চেষ্টা করিবেন যাহাতে এই পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন সাধন করা যায়। কী পাইলাম আর কী পাইলাম না তাহার হিসাব মিলাইবার বহু সময় আছে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে: মর্নিং শোজ দ্য ডে। অর্থাৎ সকালই বলিয়া দেয় দিনটি কেমন যাইবে। মাত্র চার দিনের সরকারের শুরুটা যখন ভালো হইয়াছে, তখন আশা করা যায়, মাঝের ও শেষটাও ভালো হইবে।
কোনো দেশের কোনো সরকারই জনগণের চাহিদা মিটাইতে পারে না। কেননা মানুষের চাহিদার আসলে শেষ নাই। তবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যথাসাধ্য চেষ্টা চালাইয়া যাইতে হইবে নূতন সরকারকে। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙিয়া পড়া বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি মেরামতে মনোনিবেশ করাও বাঞ্ছনীয়। এই বিষয়ে সরকারপ্রধান সচেতন আছেন বলিয়া তাহার কথাবার্তায় বোঝা যাইতেছে। তারেক রহমান ১৭ বৎসর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করিয়াছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তাহাকে গোছালো এবং উদার ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে। তিনি ইতিমধ্যে রাজনীতি হইতে প্রতিহিংসা-প্রতিশোধপরায়ণতা দূর করিবারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করিয়াছেন। হয়তো তাহার কারণে কার্যক্রম-নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন জেলায় তাহাদের দলীয় অফিস খুলিতে শুরু করিয়াছে। তাহাদের নিকটও সরকারের এই শুরুটা একটি গুড সাইন বা শুভ লক্ষণ বলিয়া বিবেচিত হইতেছে। তবে তাহাদেরও মনে রাখিতে হইবে, এত তাড়াহুড়ার কোনো দরকার নাই। ট্রুথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের (ন্যাশনাল ইউনিটি অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন) বিষয়টিও অসম্ভব নহে।
মোদ্দা কথা, নূতন সরকারের আমলে শীঘ্রই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক তথা সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগিবে বলিয়া আমরা মনে করি। তাই সরকারের শুভসূচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য রহিল শুভকামনা।
