সেপ্টেম্বরের
স্থানীয় নির্বাচনে
বিরোধীদলীয়
সদস্যদের প্রার্থিতা
পুনর্বহালের
দাবি
তৌহিদ আজিজ
নির্বাচন নিয়ে লাগাতার বিক্ষোভে উত্তাল রাশিয়া। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনে বিরোধীদলীয় সদস্যদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগের দাবিতে এ বিক্ষোভ হচ্ছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার লোককে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে। তাকে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ ধরনের বিক্ষোভকে অবৈধ আখ্যায়িত করার পর তা আরো চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এটি এখন আর সাধারণ আন্দোলনে নেই, এটি এখন ‘পুতিন হটাও’ আন্দোলনে মোড় নিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মস্কোয় এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাদের দাবি মানা না হলে সবকিছু অচল করে দেওয়া হবে। কেননা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সুকৌশলে তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লেগেছে। তাই তারা তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ বলছেন, সরকার যেভাবে তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে তাতে এখন আর পেছন ফেরার সময় নেই। তাদের আন্দোলনকে সফল করতেই হবে। আরো একজন বিক্ষোভকারী জানান, সরকারের পুলিশ বাহিনী যেভাবে তাদের তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে তাতে একে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না। তারা এ ধরনের হামলাকে সরকারের চরম ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মস্কোর স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকা ও বৈধ স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে না পারায় ৩০ জনের প্রার্থিতা বাতিল বা তাদের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়। আর এরপর থেকেই মস্কোয় আন্দোলনকারীরা প্রায় প্রতিদিনই প্রতিবাদ-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, অন্যায়ভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বিরোধী দল বলছে, তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। এভাবে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা যায় না। অন্যদিকে মস্কোর মেয়র এই বিক্ষোভকে নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে তা কঠোর হস্তে দমনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মস্কোর এ নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন হলেও এর প্রভাব সামনের জাতীয় নির্বাচনে গিয়ে পড়তে পারে। ২০২১ সালে দেশটির পার্লামেন্টারি নির্বাচন হবে। কাজেই এখানকার জয়-পরাজয়ের প্রভাব সামনে গিয়েও পড়বে। বিরোধী দল বলছে, এই নির্বাচনে তাদের অংশ নিতে না দিয়ে তারা মূলত জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাঁয়তারা করছে। কারণ, এখানে তাদের ঘায়েল করতে পারলেই জাতীয় নির্বাচনে সরকারের পথ অনেকটা মসৃণ হবে। আর এ কারণেই তাদের নেতা নাভালিনকে গ্রেফতার ও পরে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ‘মানি লন্ডারিংয়ের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
