তোমাদেরকে সুশিক্ষায় বড়ো হতে হবে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ২২:০৮

আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে বলেছেন, জীবনটাই প্রতিযোগিতামূলক। যারা এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় এসেছ তাদেরকে জীবনের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে। সুশিক্ষায় বড়ো হতে হবে। তার উদ্দীপনা, প্রেরণা আর উত্সাহব্যাঞ্জক এমন কথাশুনে ছোটো ছোটো শিশু-কিশোররা হাততালি দিয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত করে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের আজ ৭০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে গতকাল বিকালে আবাহনী মাঠে আবাহনী সমর্থক গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ প্রতিবছরের মতো এবারও জন্মবার্ষিকী উদযাপনের আয়োজন করে। কয়েক শত শিশু-কিশোর এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। রংতুলির আঁচড়ে খুদে আঁকিয়েরা দেশ নিয়ে তাদের ভাবনা ফুটিয়ে তোলে। নদ-নদী, সাগর-পাহাড়, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি, বঙ্গবন্ধু, নৌকা, শেখ কামালকে নানাভাবে রং তুলির আঁচড়ে তুলে ধরে বেঁধে দেওয়া এক ঘণ্টা সময়ে। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তৃয়াশা সরকার এঁকেছে বঙ্গবন্ধুর ছবি। বঙ্গবন্ধুর বুকের পাশে পুত্র শেখ কামালের ছবি। চার পাশে লেখা শুভ জন্মদিন। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী হুমায়ারা আদিবা এঁকেছে শেখ কামালের হাতে ফুটবল। ফসল ফলানোর ছবি এঁকেছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আজমাইন, তাসফিয়া কাজল অদিতির তুলিতে উঠে এসেছে গাছ আর নৌকার ছবি, বঙ্গবন্ধু ফুটবল খেলছেন বাচ্চাদের সঙ্গে এমন ছবি এঁকেছিল প্রথম শ্রেণীর ছাত্র নুহান আব্দুল্লাহ। এভাবেই মনের চিত্রগুলো রং তুলি দিয়ে ক্যানভাসে তুলে এনেছে আজকের শিশুরা।

প্রধান অতিথি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যখন শিশুদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে শুরু করলেন তখন অনুষ্ঠানের পুরো ছবিটাই যেন নতুন রুপ পেল। শিশুরা মোহবিষ্ট হয়ে কথা শুনতে লাগল। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বক্তরা বলে গেলেন শেখ কামাল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গায়ক ছিলেন। সংগঠক ছিলেন। যেটা বলেননি কেউ সেটা হচ্ছে শেখ কামালের মৃত্যুটা যেভাবে হয়েছে সেটা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করে গেছেন। তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তা না করে সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করে গেছেন। শেখ কামাল একজন সাহসী পুরুষ ছিলেন। অনেকে ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতা দেখান। রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখায়, প্রশাসনিক ক্ষমতা দেখায়, অর্থের ক্ষমতা দেখায়। আমরা সেটা দেখেছি। কিন্তু শেখ কামালের চলাফেরা ছিল অতি সাধারণ মানুষের মতো। আমার সঙ্গে ছোটো ভাই বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল। ভাইয়ের মতো আমার সঙ্গে তার ওঠা-বসা, কথাবার্তা হতো। খুব সামান্যই রাজনৈতিক আলাপ করত। কারণ সে জানত আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসাবেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কথা বলতাম। ৭৫ এর পর অনেকেই বলেছেন বঙ্গবন্ধুর নাম, আওয়ামী লীগের নাম, আবাহনীর নাম, শেখ কামালের নাম বিলুপ্তি হয়ে যাবে। সেটা হয়নি। যারা বলেছিলেন তারা জীবিত থাকলে দেখতে পারতেন। আওয়ামী লীগের নাম, আবাহনীর নাম, শেখ কামালের নাম মুছে যায়নি।  তিনি বলেন, ৭৫ পরবর্তি অনেকেই বঙ্গবন্ধুর নাম, আবাহনীর নাম শেখ কামালের নাম বলতে চাইলেও ভয়-ভীতির কারণে বলতে পারতেন না।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ছোটো ছোটো শিশুদের দিকে তাকিয়ে কথা বলছিলেন। শিশুরাও মুগ্ধ হয়ে শুনছিলেন জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে না যাওয়া সাহসী শেখ কামাল নামের এক নায়কের কথা। লোভ-লালসাহীন শেখ কামালের গৌরবময় জীবনের কথাগুলো। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা যতদিন থাকবে বঙ্গবন্ধু ততদিন থাকবেন। আমি বলি বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুর জায়গায় থাকবেন। উনি দেশ সৃষ্টি করে গেছেন। কিন্তু শেখ কামালের যে উদ্যোগ সেটা কেউ ভুলবে না। ৭২ সালে ক্লাব করার কথা চিন্তা করেছে। কেউ সেটা কল্পনা করতে পারে? ৭২ সালে শেখ কামাল ব্যবসা বাণিজ্যে যায়নি। ওই বয়সে সে টাকা পয়সা বানাবার চিন্তা ভাবনা করতে যায়নি। এটা কল্পনা করা যায়? অথচ তাঁর সঙ্গে থাকা দুই একজন বন্ধু ব্যবসা করেছে যাদের নামটা বললে মনটা খারাপ হয়ে যাবে। শিশু অভিভাকদের উদ্দেশে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এই শিশুরা যতদিন বেঁচে থাকবে তারা জানবে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। এই সংগ্রামকে অর্জন করে জীবনটা গড়ে তুলতে হয়।

খুদে আঁকিয়েদের ছবির বিচার করেছেন গ্যালারি চিত্রকের নির্বাহী পরিচালক শিল্পী মনিরুজ্জামান, শিল্পী রেজাউন নবী।