রাজবাড়ী একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এই জনপদকে আধুনিক, নান্দনিক এবং জ্ঞানসমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা আক্তার। ২৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই মেধাবী কর্মকর্তা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক জীবনে মানসিক প্রশান্তির জন্য সুন্দর পরিবেশে তৈরির করার লক্ষ্যে রাজবাড়ীর চিরচেনা পদ্মা পাড়কে নতুন রূপে সাজিয়েছেন। ২০২৫ সালের ৬ জুন তিনি উদ্বোধন করেন 'পদ্মাপুলক', যা এখন জেলার প্রধান পর্যটন আকর্ষণ।
এখানে স্থাপিত 'I Love Rajbari' পয়েন্টটি জেলার মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ নভেম্বর তিনি উদ্বোধন করেন 'জলকাব্য'। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি উদ্বোধন করেন 'জলাঙ্গী'। নদীর ঢেউ আর আধুনিক স্থাপত্যের মেলবন্ধনে জলাঙ্গী সংলগ্ন এলাকাটি এখন নাগরিক আড্ডার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকা রাজবাড়ী পৌর শিশু পার্কটি তার প্রত্যক্ষ তদারকিতে ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। গত ১৯ নভেম্বর তিনি এই পার্কের আধুনিক রাইড ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন, যার ফলে প্রতিদিন বিকালে শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এই প্রাঙ্গণ।
সংস্কৃতিমনা এই জেলা প্রশাসক রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী আজাদী ময়দানে ঢাকার রবীন্দ্র সরোবরের আদলে একটি নান্দনিক 'মুক্তমঞ্চ' নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া 'টাউন হল ডিসি পার্ক' সংস্কার ও আধুনিকায়ন তার অন্যতম সৃজনশীল উদ্যোগ। জেলার ঐতিহ্যবাহী উডহেড পাবলিক লাইব্রেরি সংস্কার এবং সেখানে আধুনিক কফিশপ ও ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞানমুখী করছেন। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করেছে 'স্বপ্নডান্য প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়'। পরিবেশ রক্ষায় তিনি এক সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন, যার আওতায় জেলায় ইতিমধ্যে ৫০ হাজারের অধিক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে গভীর রাতে রেল স্টেশন বা নদীর পাড়ে অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল জড়িয়ে দেওয়া কিংবা প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ তার প্রতিটি কাজে ফুটে ওঠে গভীর মমতা।
একজন নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি নিজেকে আলাদাভাবে দেখতে চান না, বরং একজন জনসেবক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তবে তিনি স্বপ্ন দেখেন, রাজবাড়ীর প্রতিটি নারী যেন সাহসী হন এবং নির্ভয়ে তাদের সমস্যাগুলো প্রকাশ করতে পারেন।
