নামের মিল থাকার কারণে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের জসিম হাওলাদার নামের এক যুবক বারবার পুলিশের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জসিম পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। জানা গেছে, দিয়াশুর গ্রামে আরেক জসিম হাওলাদার রয়েছে। সে ওই গ্রামের মৃত ভাষাই হাওলাদার ওরফে ডাকাত ভাষাইয়ের ছোট ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, ডাকাত ভাষাইয়ের ২ ছেলে সন্ত্রাসী। তাদের নাম জসিম হাওলাদার (৩০) ও বাদল হাওলাদার (৩৫)। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকায় বসবাস করেন। বাবার মতো তারাও ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর এলাকার লোকজন তো দুরের কথা, জানতো না স্থানীয় থানা পুলিশও।
তবে নাম ও পিতার নামে মিল থাকার কারণে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছে একই গ্রামের জসিম হাওলাদার নামের আরেক যুবক। সন্ত্রাসী জসিমের নামে দায়েরকৃত মামলায় স্থানীয় থানা পুলিশ কয়েকদফা তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানায় সন্ত্রাসী জসিমের নামে দায়েরকৃত একটি ডাকাতি মামলায় জারীকৃত ওয়ারেন্টের সূত্র ধরে গত ২৬ জুলাই গৌরনদী থানা পুলিশ ভুলক্রমে জসিম হাওলাদার নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করে থানা হাজতে আটক রাখে। পরবর্তিতে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। ওইব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হলে পরদিন পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনায় গৌরনদী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ওইদিন একটি জিডি করা হয় (যার নং-১৪১৫)। জসিমও হয়রানি এড়াতে গত ৩০ জুলাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
গৌরনদী থানার এসআই মোঃ সগীর হোসেন জানান, ‘ডাকাত পুত্র জসিম ও বাদলের নামে ঢাকার সবুজবাগ থানায় ৩টি ডাকাতি ও ১টি অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। ডাকাতির মামলা নং- ৮১০/০৮, ৫০(১০)১১, ৯(১০)১৭, অস্ত্র মামলা নং-৬৩(১০)১১। সবুজবাগ থানার জিআর-৮১০/০৮ নং ডাকাতি মামলায় বাদল হাওলাদার গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ ৬ বছর ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছে। তার ছোটভাই জসিম হাওলাদারও একই মামলার আসামি। কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার আরও ১টি ডাকতি (যার নং-৫৮(১০)১৭) মামলার আসামি জসিমসহ আরও কয়েকজন। ওই সব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে জসিম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় ৪৪ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত, শহরে এডিস মশা আতঙ্ক
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ গোলাম ছরোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একই গ্রামে জসিম হাওলাদার নামের ২ ব্যাক্তি রয়েছে। তাদের পিতার নামও এক। তাই পুলিশ যে জসিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে তাকে ভেবে অন্যজনকে আটক করেছিল। পরে তদন্তে আটক ব্যক্তি অভিযুক্ত ব্যাক্তি না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
