ইফতারের বিরতিতে দুয়োর শিকার মুসলিম ফুটবলাররা, গার্দিওলার ক্ষোভ 

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫০

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের বিরতির সময় কটূক্তির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এল্যান্ড রোডে ম্যানচেস্টার সিটি মুখোমুখি হয় লিডস ইউনাইটেডের। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে খেলা কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। 

সিটির মুসলিম ফুটবলারদের জন্য রমজানের রোজায় ইফতারের জন্য ওই বিরতি। কিন্তু সেই সময় লিডসের দর্শক-সমর্থকরা দুয়োধ্বনি দিতে থাকেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ম্যানসিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।

স্থানীয় সময় সাড়ে পাঁচটায় শুরু হওয়া সিটি-লিডস ম্যাচের ১৩তম মিনিটে খেলা থামানো হয় মুসলিম ফুটবলারদের ইফতারের জন্য। সিটির ওমর মারমৌশ, রায়ান আইত-নৌরি ও রায়ান শেরকি পানীয় পান করে রোজা ভাঙেন। সিটির আরেক মুসলিম খেলোয়াড় আব্দুলকদির খুসানোভও বেঞ্চ থেকে উঠে ইফতারিতে অংশ নেন। এই সময় লিডসের গ্যালারি থেকে দর্শকরা বিদ্রুপ শব্দ উচ্চারণ করতে থাকে। ম্যাচে আন্তোয়ান সেমেনিওর গোলে ১–০ ব্যবধানে জেতে সিটি।

কটূক্তিকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ম্যানসিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘এটি একটি আধুনিক বিশ্ব, তাই না? বিশ্বে আজ কী ঘটছে, তা আপনারা দেখছেন। ধর্ম ও বৈচিত্র্যকে সম্মান জানানোই হলো আসল কথা। প্রিমিয়ার লিগ বলেছে যে আপনারা এক বা দুই মিনিট সময় নিতে পারেন, যাতে (রোজাদার) খেলোয়াড়েরা ইফতার করতে পারে। এটি যেমন হওয়া উচিত তেমনই হয়েছে, দুর্ভাগ্যবশত (কিছু মানুষ তা মানতে পারেনি)।’

দুয়োধ্বনি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে আসা লিডসের সহকারী কোচ এডমন্ড রিমারকে। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি থেকে শেখার চেষ্টা করছি। পরেরবার আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

বৈষম্যবিরোধী সংস্থা ‘কিক ইট আউট’ ইফতারের বিরতিতে কিছু দর্শকের দুয়ো দেওয়ার বিষয়টিকে ‘ব্যাপক হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোজার সময় মুসলিম খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার অনুমতি দেওয়ার জন্য খেলা সাময়িক বিরতি রাখা এখন স্বীকৃত প্রটোকল। মুসলিম খেলোয়াড় ও সম্প্রদায়ের কাছে ফুটবলকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান অংশ। কিন্তু আজকের প্রতিক্রিয়া দেখায় যে শিক্ষা এবং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফুটবলকে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ