এনায়েতপুরে যমুনার ৬ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫৫

সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর থানার ব্রাক্ষ্মণগ্রাম থেকে দক্ষিণে ভেকা পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙনে বিপর্যস্ত জনপদ। পানি কমা কমতে থাকায় তীব্র স্রোতে ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে নদীর পশ্চিম তীর জুড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গত কয়েক দিনে অন্তত শতাধিক ঘরবাড়ি ও কয়েকশ একর আবাদি জমি বিলীন হয়েছে। 

এদিকে যমুনা নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধিতে ঘুর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে নদীর ডানতীর ব্রাক্ষ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, বাঐখোলা, পাকড়তলা, ভেকা, পাঁচিল পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার জুড়ে এখন কেবলই ভাঙনে হাহাকার। বন্যার পানি নামতে থাকায় নদীতে দেখা দিয়ে প্রচণ্ড স্রোতে। আর এ কারণেই তীরবর্তী এসব এলাকা নিশ্চিহ্ন হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ঘর রাতের আধারে আসবাবপত্রসহ দেবে গেছে নদীতে। 

আরও পড়ুন : আগস্ট আসলেই পরাজিত অপশক্তি ষড়যন্ত্র শুরু করে: ওবায়দুল কাদের

গত ১ সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত: শতাধিক ঘর-বাড়ি ও কয়েক শ’ একর আবাদী জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ আবাদী জমি। গত কয়েক মাস আগে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রাক্ষ্মণগ্রামে বালি ভর্তি জিওটেক্স বস্তা ফেলে ভাঙন রোধে ভুমিকা রেখেছে। তবে এর দক্ষিণে ৫ কিলোমিটার অরক্ষিত থাকায় ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। 

ভোক্তভোগীরা বলেন, আমরা রিলিফ চাই না। আমাদের ৬ কিলোমিটার বাঁধ করে দিক। আর আপাতত ব্রাক্ষ্মণগ্রামের মতো দক্ষিণ এলাকায় জরুরি জিও টেক্স বস্তা ফেলে আমাদের এলাকা ভাঙন রোধ করুক।

ভাঙন বিষয়ে খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া ও জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সুলতান মাহমুদ জানান, আমরা জনগণের কাছে এখন নগণ্য প্রতিনিধি। কারণ তাদের কাছ থেকে ভোট নিয়ে চেয়ারম্যান হয়েও কোনও উপকারে আসতে পারছি না। ভাঙন রোধে আমরাও অনেক তদবির করেছি সব জায়গায় কিন্তু কাজ হচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন উদ্যোগী হয়।

এদিকে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ ঐ এলাকা যমুনার হাত থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষায় ৭৯০ কোটি টাকার প্রকল্প দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। তা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত কিছু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা আশা করছি ভাঙনের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে মন্ত্রণালয়। 

এদিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ৭৯০ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রকল্প অনুমোদনের হলে তা রক্ষা করা সম্ভব। 

ইত্তেফাক/কেআই