ফেরিতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু: পুত্র শোকে তিতাসের মা হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৭:২৫

স্কুলছাত্র তিতাসের মা সোনামনি ঘোষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একমাত্র পুত্রের অকাল মৃত্যুর শোকে কাতর হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রবিবার রাতে তাকে কালিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি তার পুত্রের মৃত্যুর জন্য দায়ী ভিআইপির বিচার দাবি করেছেন। 
       
তিতাসের বোন তনিষা ঘোষ জানান, তিতাস মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা আহার, নিদ্রা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। একদিকে ছেলের শোক অন্যদিকে খাবার না খাওয়া এবং না ঘুমানোর কারণে গত কয়েক দিন যাবৎ তিনি অসুস্থ্ হয়ে পড়েন। রবিবার বিকাল থেকে তার শরীরের রক্তচাপ কমে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
        
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার শরীফ সাহাবুবুর রহমান বলেছেন, তার মানসিক দুশ্চিন্তা ও আহার নিদ্রার অভাবে রক্তচাপ উঠানামা করছে। তবে তিনি এখন ভালো আছেন। 
       
উল্লেখ্য, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ (১১) গুরুতর আহত হয়। ওই সময় তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার আইসিইউ সম্বলিত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় ১৯ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। যুগ্ম সচিব আবদুল সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন তাই ওই ফেরিকে অপেক্ষা করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু এর মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে মাঝপদ্মায় অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় স্কুলছাত্র তিতাস।

ইত্তেফাক/কেকে