চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন ১৫ বাড়ি মেঘনাগর্ভে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:০৬

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুর মেঘনা নদীর শহররক্ষা বাঁধের ২০০ মিটার ব্লক ধসে পুরান বাজার হরিসভা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ওই এলাকার সেমি পাকা ও টিনের ১৫টি বসতঘর ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে হরিসভা এলাকার চারটি মন্দির ও চলাচলের সড়ক। হুমকির মুখে থাকা বহু বসত ঘর ভেঙে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকার বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ভাঙন শুরু হয়। রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থলে বালু ভর্তি ৫০০ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো হচ্ছে—হরিসভা এলাকার গুপিনাথ সাহা, আদিনাথ সাহা, সম্ভুনাথ দে, সুশান্ত দে, মানিক সাহা, সঞ্জয় চক্রবর্তী, বিমল দে, দ্বীপক দে, ধ্রুবরাজ সাহা, সুনীল দে, শ্যামল দে, ওয়াদে আলী শেখ, অঞ্জু শেখ, আমজাদ আলী মুন্সি ও কার্তিক সাহা।

চাঁদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, ভাঙন শুরু হওয়ার পরেই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছি। গত বছরও একই স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি রক্ষায় স্পেশাল বরাদ্দ দেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োজিত ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন না করায় আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরো বসতিসহ হরিসভা, কালি, স্কন ও লোকনাথ মন্দির মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে রাতেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় ৫০০ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পুলিশ, দমকল বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, গত কয়েক বছরই একই স্থানে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। পুরানবাজার এলাকার বাকি অংশ ভালো থাকলেও প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় প্রতিবছর সমস্যা হচ্ছে। আমরা তাত্ক্ষণিক জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছি। পরবর্তীতে ব্লক পেলে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হবে।

চাঁদপুর-হাইমচর ভাঙন রক্ষায় ১ হাজার

১০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, যেকোনো মূল্যে মেঘনার ভাঙন থেকে চাঁদপুরকে রক্ষা করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেঘা প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর ও হাইমচর উপজেলা স্থায়ীভাবে রক্ষাকল্পে ১ হাজর ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ার পরেই চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

সোমবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরান বাজার হরিসভা এলাকা পরিদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ১ হাজার ১০০ কোটি টাকায় যদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সমস্যা হয়, প্রয়োজনে ১ হাজা ৫০০ কোটি টাকা এ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ডিজাইন মোতাহার হোসেন ও প্রধান প্রকৌশলী কুমিল্লা অঞ্চল জহির উদ্দিনসহ আরো ঊর্ধ্বতন কর্মকতাগণ উপস্থিত ছিলেন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে তাত্ক্ষণিকভাবে দুই বান্ডেল টিন ও নগদ ছয় হাজার টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।