‘দেশে তেলের ক্রাইসিস হয়েছে, তাই ব্যবসায়ী হিসাবে দু-চার টাকা লাভ করার জন্যেই তেল লুকায় রাখছিনু।’— সম্প্রতি বাঁশঝাড়ের মাটির নিচ থেকে তেল উদ্ধারের ঘটনায় আলোচনায় আসা দণ্ডপ্রাপ্ত তেল ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন ঠিক এভাবেই অকপটে তুলে ধরেছেন তেল মজুতের কথা। তবে তার ভাষ্য, এ কাজ আগে কখনও করেননি তিনি। দোকানের দুর্নাম হচ্ছে বলে ভবিষৎতে মজুত করার ইচ্ছে নেই তার।
রোববার (৮ মার্চ) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে এমনটাই জানিয়েছেন রুবেল হোসেন।
এর আগে গত শনিবার নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বাঁশঝাড়ের মধ্যে মাটির নিচে পানির ট্যাংক বসিয়ে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল লুকিয়ে রাখায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত। পরে মাটির নিচে মজুত রাখা তেল উঠিয়ে দোকানে বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এদিকে রোববার দুপুরে সিংড়া বাজারের থানা মোড়ে সততা ট্রেডার্সে গিয়ে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসময় তিনি দাবি করেন, নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার সকাল থেকেই বাজারে তেল বিক্রি করতে শুরু করেন তিনি। দুপুর হতে হতেই প্রায় ৫ হাজার লিটার তেল বিক্রি হয়ে গেছে।
রুবেল হোসেন বলেন, ‘তেল বিক্রি আমার বাবাও করতেন। আমি ২০০৩ সাল থেকে তেল বেচি। তেল সংরক্ষণ করে খুচরা বিক্রি করার লাইসেন্স আমাদের আছে। কিন্তু কখনোই মাটির নিচে তেল সংরক্ষণ করিনি। জরিমানাও দেইনি। কিন্তু তেলের ক্রাইসিস হওয়ায় ভাবিছিনু—কিছু তেল রাখি দেই।’ ভবিষ্যতে আবারও তেল মজুত রাখার ইচ্ছা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর কখনোই না। আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হয়া গেছে।’
রুবেল হোসেন বলেন, ‘ইউএনও স্যারের নির্দেশে আজ সকালে মাটির নিচ থেকে তেল (ডিজেল) তুলে আনছি, বিক্রিও করছি। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার লিটার বেচা হয়ছে। সরকার নির্ধারিত হারে কৃষকদের কাছে তেল বেচছি।’ এত তেল মজুত রাখার পাত্র কোথায় পেয়েছিলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাটোর-বগুড়া রোডের কাজ চলে। রোডের ঠিকাদার পানি দেওয়ার জন্য ট্যাংকি রাখছিল। চার হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে ট্যাংকি লিছিলাম। ট্যাংকিও ফেরত দিছি। ভাড়ার টাকাটাই লস।’
সততা ট্রেডার্সে তেল নিতে আসা স্থানীয় কৃষক বাছিরুল ইসলাম বলেন, আজ তেল নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ঠিক দামেই তেল দিচ্ছেন। তবে তেলের মেমো দিচ্ছেন না।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রিফাত জানান, ‘শনিবার মাটির নিচ থেকে তেল উদ্ধারের পর রুবেল হোসেনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই তেল তুলে এনে দোকানে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে মোতাবেক আমি রোববার সকালে তার দোকানে গিয়ে তেল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তিনি ন্যায্য মূল্যে তেল বিক্রি করছেন।’

নাটোরে মাটির নিচে তেলের খনি!