পশুখাদ্যে নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য উপকরণ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৭

গবাদি পশুর খাদ্য কিংবা পোলট্রি ফিডের গুণমানের উপর নির্ভর করে ঐ প্রাণীদের মাংস কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত হইবে। কেবল পর্যাপ্ত খাদ্যের সংস্থান করিলেই হয় না, খাদ্যটি নিরাপদ কি না—তাহাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, অনিরাপদ খাদ্য স্লো পয়জনের মতো। শরীরে বিভিন্ন রোগব্যাধি সৃষ্টির নেপথ্যে প্রধান অনুঘটকের কাজ করে অনিরাপদ খাদ্য।

সম্প্রতি র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ধামরাইয়ের একটি কারখানায় অভিযান চালাইয়া আমদানিনিষিদ্ধ শূকরের হাড় ও চর্বির গুঁড়া (পাউডার) দিয়া পোলট্রি ফিড ও গবাদি পশুর খাদ্য উত্পাদনের প্রমাণ পাইয়াছে। এই অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করিয়াছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই সময় প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শূকরের চর্বি ও হাড়ের গুঁড়া জব্দ করা হয়। ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত সংবাদে বলা হয়, ঐ প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের প্রস্তুতকৃত রাইস ব্রান তেলের বোতল মেয়াদ উত্তীর্ণ হইয়া গেলে সেইসকল তেল সংগ্রহ করিয়া কারখানায় লইয়া আসিয়া নূতন করিয়া মেয়াদ বাড়ানো লেবেল বসাইয়া দিত এবং পুনরায় বাজারজাত করিত। দেশে শূকরের চর্বি ও হাড়ের গুঁড়া আমদানি নিষিদ্ধ থাকিলেও তাহারা ঐ পাউডার দিয়াই পোলট্রি ফিড ও গবাদি পশুর খাদ্য উত্পাদন করিত।

ইহা সত্য যে, খাদ্য উত্পাদন হইতে শুরু করিয়া ভোক্তার রান্নাঘর পর্যন্ত খাদ্যের গুণমান নিশ্চিত রাখা অনেক বড়ো চ্যালেঞ্জ। শিল্পোন্নত দেশে খাদ্যবাহিত রোগের সংখ্যা প্রতিবত্সর শতকরা ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পাইতেছে। অনুন্নত দেশসমূহে এই সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তির অভাব থাকিলেও বিশ্লেষকদের মতে এই হার দ্বিগুণেরও বেশি। ডায়রিয়া হইতে শুরু করিয়া ক্যানসার—এমন দুই শতাধিক রোগের জন্য দায়ী অনিরাপদ খাদ্য। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করিতে ২০১৩ সালে নিরাপদ খাদ্য আইন তৈরি করিয়াছে সরকার। এই আইনের আওতায় গঠন করা হইয়াছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

স্পষ্টতই, একটি খাদ্য কতখানি নিরাপদ—তাহার প্রধান শর্ত হইল ঐ খাদ্যটি যথাযথভাবে নিয়ম মানিয়া উত্পাদন করা হইয়াছে কি না। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের রসনা এতটাই লম্বা হইয়া গিয়াছে যে, তাহারা নিকৃষ্ট উপায়ে পশুখাদ্য তৈরিতেও চরম ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিতেছে। তাহা না হইলে, শূকরের চর্বি ও হাড়ের গুঁড়া আমদানি নিষিদ্ধ থাকিবার পরও উহা আমদানি করিয়া কীভাবে পশুখাদ্য তৈরির দুঃসাহস দেখায়? আমরা মনে করি, আমদানিনিষিদ্ধ শূকরের চর্বি ও হাড়ের পাউডার যাহারা আমদানি করিয়া এই প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রয় করিয়াছে, তাহাদেরও চিহ্নিত করা জরুরি। ইহার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন ও বাজারজাতের ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে আরো বেশি নজরদারি বৃদ্ধি করিতে হইবে। সাধারণ ভোক্তাদেরও সচেতন হইতে হইবে নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে।