ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ আগামী ১২ আগস্ট উদ্যাপিত হবে। ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ— ঈদুল আজহা সেটা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের দেশে সাধারণত কোরবানির পশুর চামড়া এতিমখানা মাদ্রাসায় দান করা হয় বা চামড়া বিক্রি করে এর টাকা দরিদ্র ছাত্র বা দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে চামড়ার বাজার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেও কোরবানির পশুর চামড়া উচ্চ মূল্যে বিক্রি হতো। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কোরবানির চামড়া পানির দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করে নিজেরা টাকার পাহাড় গড়ছে! বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, বছরে সংগৃহীত চামড়ার অর্ধেকই পাওয়া যায় কোরবানির ঈদে। দেশে এ বছর আনুমানিক এক কোটি ১০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। চামড়ার বাজার মোটামুটি থাকলে গড়ে ৮০০ টাকা করে ধরলে দেখা যায় আট শ আশি কোটি টাকা দাঁড়ায়। যা দিয়ে বৃহত্ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। দেশের চামড়ার বাজার অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষ করা গেলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। চামড়ার দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকলেও চামড়ার জ্যাকেট, জুতা, ব্যাগ, সান্ডেল, মানিব্যাগসহ চামড়ার তৈরি পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। আমরা প্রত্যাশা করি, আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়ার বাজার হোক সিন্ডিকেটমুক্ত, স্থিতিশীল, চামড়ার হকদাররা পাক ন্যায্যমূল্য।
মো. রেজাউল করিম সবুজ
সেকশন অফিসার (সংস্থাপন), জাতীয় কবি কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
