তিতাস ঘোষের মৃত্যু সম্পর্কে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:২০

ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে সিনেমা হলে গিয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখেছিলাম। ভাগ্যের পরিহাস, তার ৪৪-৪৫ বছর পরে সম্প্রতি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার তিতাস ঘোষ নামের ১১ বছরের এক স্কুলছাত্রের মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী ১ নম্বর ফেরিঘাটে ভিআইপির জন্য ফেরি পারাপারে তিন ঘণ্টা বিলম্বের কারণে অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যুর ঘটনার মতো হূদয় বিদারক খবর গত ২৯ জুলাই পত্রিকায় পড়তে হয়েছে। নভেম্বর ১৯৯৭ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ পর্যন্ত ডানিডা ফেলোশিপের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে কোপেনহেগেন, ডেনমার্কে ছিলাম। সন্ধ্যাবেলা পৃথিবীর আটটি দেশের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্টুডেন্টস হোস্টেল অডিটরিয়ামে টেবিল টেনিস খেলে, টেলিভিশন দেখে কিংবা ডেনিস ছবি দেখে বা গল্প করে সময় কাটাতাম। একজন ডেনিস যুবক কিংবা একজন তরুণী আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কিংবা ডেনিস ছবি দেখিয়ে আনন্দ দিতেন। ডিসেম্বর ১৯৯৭-এর এক সন্ধ্যায় ডেনিস যুবকটি আগের রাতে ঘটিত দুর্ঘটনার জন্য ডেনমার্কের প্রতিমন্ত্রী শেষ রাতে গাড়ি ড্রাইভ করে নাইট ক্লাব থেকে ফিরে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানান। খবরটি সেদিন আমাকে তাঁদের দেশের রাজনীতিবিদ, প্রশাসন তথা পুলিশের নির্ভীক কর্তব্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছিল। ২০০১ সালে বোস্টন, আমেরিকায় গিয়েও পুলিশের সহযোগিতা ও কর্তব্যবোধের কিছু ঘটনা আমাকে বিমোহিত করেছে। তিতাস ঘোষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুটি মাননীয় হাইকোর্টের আদেশমাফিক সুষ্ঠু তদন্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি হলে তিতাস ঘোষের বিদেহী আত্মার শান্তি হবে কি না স্রষ্টাই ভালো জানেন। তা নাহলে বিচারের জন্য সকল অভিযোগ রবি ঠাকুরের ভাষায় বারে বারে কেঁদে কেঁদেই ফিরবে।

মো. সফিকুল ইসলাম

জিগাতলা, ঢাকা ১২০৯