ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষাচর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪০

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের সমাবেশে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম ততটা ফলপ্রসূ হয় না। এটা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রতিষ্ঠিত। এটা যেকোনো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দেশের নাগরিকদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম সুনিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। গতকাল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এই সমাবেশের আয়োজন করে। আগামী ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। এবার সারাবিশ্বে এ দিবসের রজতজয়ন্তী উদ্যাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে আসন্ন ঈদুল আজহা ছুটির সময়টা বিবেচনা করে কদিন আগে অর্থাত্ গতকাল আদিবাসী দিবসের মূল অনুষ্ঠান পালন করা হয়। তবে দেশব্যাপী ৯ তারিখেও এ দিবস উদ্যাপন করা হবে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, শুধু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রদানের জন্য শুধু গুটিকয়েক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না, তাদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি রাষ্ট্রের মর্যাদা থাকতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, বাংলাদেশে এখনো গণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায়নি। সমতলে আদিবাসীদের জাতীয় জীবনে বিরাজ করছে অস্থিরতা এবং পাহাড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জাতীয় জীবনে চলছে অশান্তি। একদিন এই অশান্তি ও অস্থিরতার কারণ ঠিকই খুঁজে পাওয়া যাবে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ্র বর্মন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত প্রমুখ। সমাবেশের পর বিভিন্ন আদিবাসী শিল্পীর অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।