ডিএনএ নমুনা অন্যের হাতে দিলে যে সমস্যা হতে পারে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫২

ইদানিং উন্নত বিশ্বের অনেক মানুষ নিজের ইচ্ছায় ডিএনএ-এর তথ্য তুলে দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে। নিজের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও তথ্য পেতে তারা এটি করছেন; কিন্তু নিজের ডিএনএ-এর মতো অত্যন্ত গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর তথ্য অন্যের হাতে তুলে দেওয়াটা যে ঝুঁকির কারণ হতে পারে সেটি অনেকেই এখনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

সাম্প্রতিক বছরে ডিএনএ টেস্ট করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালের শুরু পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তাদের ডিএনএ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে—অ্যানসেসট্রি, টোয়েন্টি থ্রি এন্ড মি, মাই হেরিটেজ এবং জিন বাই জিন। অ্যালবার্টা ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য আইন ইনস্টিটিউটের পরিচালক টিম কলফিল্ড বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ না জেনে বুঝে ডিএনএ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে। ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর প্রতি মানুষের নজর দেওয়া উচিত। কারণ এসব প্রতিষ্ঠান যে কোনো ওষুধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে সেসব তথ্য তাদের হাতে তুলে দেবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইতিমধ্যেই এই ধরনের নজির পাওয়া গেছে। ২০১৬ সালে টোয়েন্টি থ্রি অ্যান্ড মি নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে সংরক্ষিত ডিএনএ তথ্য ১৩টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে। জেনেটিক নামের একটি ওষুধ কোম্পানি ১০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পারকিনসন্স রোগে ভুগছে—এমন ব্যক্তিদের ডিএনএ তথ্য নিয়েছে। অন্যদিকে এই তথ্যভান্ডারে প্রবেশের জন্য গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে।

তবে ডিএনএ-এর তথ্য নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এসব তথ্য তারা কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করে না। নিজেদের গবেষণার জন্যই মূলত তারা এসব তথ্য কাজে লাগায়। টোয়েন্টি থ্রি অ্যান্ড মি জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকদের শতকরা ৮০ ভাগ ডিএনএ তথ্য তারা গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য দিয়েছে। তারা চাইলে যে কোনো সময় সেটি প্রত্যাহার করতে পারে। ডিএনএ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, গ্রাহক চাইলে যে কোনো সময় তাদের সম্মতি প্রত্যাহার করতে পারেন; কিন্তু বাস্তবতা বেশ জটিল। মি. কলফিল্ড বলেন, এই তথ্যগুলো যখন একত্রিত করা হয়, তখন এগুলো ফিরে পাওয়া বেশ জটিল। যদি প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যায় তাহলে কী হবে—প্রশ্ন রাখেন কলফিল্ড।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মার্কিন পুলিশ ডিএনএ তথ্য সংগ্রহকারী ফার্মগুলোর তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেছে। ভাইস নিউজ-এর সাংবাদিক সামন্থা কোল উদ্বেগ প্রকাশ করেন, মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই তার যোনিপথ সংক্রান্ত পরীক্ষার কিছু কাগজপত্র জব্দ করেছে। ডিএনএ ফার্ম ইউবায়োমির কাছে যোনিপথ সংক্রান্ত নমুনা দিয়েছিলেন মিস কোল। এফবিআই এই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে এসব তথ্য নিয়ে যায়। গত এপ্রিল মাসে মার্কিন পুলিশ এমন এক ব্যক্তির ডিএনএ তথ্য আপলোড করেছে যিনি ক্যালিফোর্নিয়াতে একাধিক ধর্ষণ, হত্যা এবং চুরি-ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। পুলিশ যেখানে এই ডিএনএ তথ্য আপলোড করেছে সেটি একটি ফ্রি অনলাইন তথ্যভাণ্ডার। এখানে যে কোনো ব্যক্তি তার জেনেটিক কোড আপলোড করে তার স্বজনদের খুঁজে নিতে পারে।

লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজ-এর ইনফরমেশন সিকিউরিটি রিসার্চ গ্রুপের প্রধান এমিলিয়ানো ক্রিসটোফারো বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষের ডিএনএ তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, তারা কখনো এসব তথ্য নিরাপদ রাখার নীতি মেনে চলে না। গ্রাহকদের স্বার্থের বিষয়টি তাদের মনেই থাকে না। আমরা যখন বিভিন্ন কোম্পানিকে সাধারণ কোনো তথ্য দিয়ে থাকি, তখন সেটি আমাদের বিষয়। যদি আমি নিজের জন্মগত তথ্য অন্যকে দিই তাহলে সেটি আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কেও প্রভাবিত করবে। এই মুহূর্তে বিষয়টি স্পর্শকাতর না হলেও ভবিষ্যতে এটি বেশ স্পর্শকাতর হয়ে উঠবে। —বিবিসি