ঝালকাঠি পুলিশ লাইন্সের রেশন সেন্টার থেকে ২৫২টি ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১১ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুদক পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত থেকে ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫২টি ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে রেশন সামগ্রী উত্তোলন করেছেন। এর ফলে মোট ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে রয়েছে - সাবেক মেস ম্যানেজার মো. আলাউদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক আরিফ মাহামুদ, মো. আল মামুন, মো. রেজাউল করিম, কাজী রাজীউজ জামান, কনস্টেবল মো. আতিকুর রহমান, কনস্টেবল ও মেস ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, অফিস সহকারী মো. তৌফিক এলাহী, ওজনদার মো. জহির উদ্দিন এবং বিক্রয় সহকারী সৈয়দ জসিম উদ্দিন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, আসামিরা সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণা করে রেশন সামগ্রী উত্তোলন করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত চলাকালে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন দুদকের এ কর্মকর্তা।
দুদকের মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিরা প্রতিটি বছরে ভিন্ন সংখ্যক ভুয়া রেশন কার্ড তৈরি করে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৩ সালে ৬০টি, ২০১৪ সালে ৫৬টি, ২০১৫ সালে ৬৩টি, ২০১৬ সালে ৪৯টি, ২০১৭ সালে ৩৯টি, ২০১৮ সালে ৭৪টি, ২০১৯ সালে ৬৭টি, ২০২০ সালে ১৪৮টি এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫২টি কার্ড তৈরি করা হয়েছে।
ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আসামিরা বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পুলিশ বিভাগ।

