নাটোরের গুরুদাসপুরে অসুস্থ গবাদিপশুর মাংস থেকে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা জাতীয় রোগের বিস্তার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই উপজেলার একটি গ্রামে মোট আট জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়াদের মধ্যে ছানারুল সরকার নামে একজনের অবস্থা গুরুতর।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই গ্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। তাছাড়া রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে শনিবার একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
অসুস্থ হয়ে পড়া ব্যক্তিরা হলেন- গোলাম মোস্তফা চুন্টু সরকার, ছানারুল সরকার, আসাদ মোল্লা, লাভলি বেগম, রাহুল সরকার, আবদুর রহিম সরকার, আলতাব হোসেন ও খাদিজা বেগম। এদের মধ্যে গালাম মোস্তফা চুন্টু রোগ নিরাময়ে কোনো চিকিৎসা নেননি। বাকিরা চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের অদূরের চলনালী গ্রামের আবদুল গফুরের অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু জবাই করা হয়। এরপর থেকে ওই গরুটি জবাইয়ে জড়িত ৮ ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। আক্রান্তরা সবাই চলনালী গ্রামের বাসিন্দা।
ইউপি সদস্য আবদুল কাদের বলেন, প্রথমে ছানারুলের মুখমণ্ডলে চুলকানির মতো ফোসকা বের হয়। এরপর একদিনের ব্যবধানে আরও ৭ ব্যক্তির শরীরে একই ধরণের লক্ষণ পাওয়া যায়।
অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে অসুস্থ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবক রাহুল ইত্তেফাককে বলেন, পরিবারের মধ্যে আমি এবং আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার বাবার মুখে বামপাশ থেকে চোখেও সংক্রমণ হয়েছে।
এদিকে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি জানাজানির পর গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি দল রোগীদের চিকিৎসা দিতে বৃহস্পতিবার চলনালী গ্রামে যায়। ওই টিমের চিকিৎসক অহিদুজ্জামান রুবেল বলেন, রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চাকআদালত-খাঁ ও মামুদপুর গ্রামের ১২ ব্যক্তি ‘অ্যানথ্রাক্স’ আক্রান্ত হয়েছিলেন।
ওই গ্রামে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে আক্রান্তদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের কথা জানিয়েছে আইইডিসিআর। গবেষণা টিমের প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক রহমান বলেন, চলনালী গ্রামের ৮ জন নারী-পুরুষের শরীরে ‘অ্যানথ্রাক্সের’ উপসর্গ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষতস্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া আগামী শনিবার সেখানে আইইডিসিআর-এর একটি টিম পাঠানো হবে।

