ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটির ভোট

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৫

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোট। ঢাকার দুই সিটির সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটির ভোট করার পরিকল্পনা থাকলেও আগামী মার্চে হবে বন্দর নগরীর ভোট। ডিসেম্বরে ভোটের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইভিএম ব্যবহার হবে তিন সিটিতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. আলমগীর ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে ঢাকার দুই সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে গেছেন। উনি দেশে ফিরলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ পালনের সুবিধার্থে আগেভাগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে পরের বছর অর্থাত্ ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ পালিত হবে। ফলে সরকারের ডিসেম্বরে দুই সিটির ভোট করার বিষয়ে গ্রিন সিগনাল রয়েছে। আর মার্চের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম সিটির ভোট হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন তিন সিটির ভোট একসঙ্গে করার পরিকল্পনা করেছিল; কিন্তু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন উপযোগী হলেও মেয়াদ শেষ না হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এ সময়ে নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় আসছে না। যার কারণে এ বছর ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটি ও আগামী বছর মার্চে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম—এই তিন সিটিতে একই দিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়ছিল; কিন্তু ঐ সময় মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছিরের দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্ব হয়েছিল। যার কারণে সিটির প্রথম বৈঠকও দেরিতে হয়েছিল।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনানুযায়ী, সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে যে কোনো সময় নির্বাচন আয়োজন করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম বৈঠক থেকে করপোরেশনের মেয়াদ শুরু হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম বৈঠক ২০১৫ সালের ১৪ মে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বৈঠক ১৭ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রায় তিন মাস পরে ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশেনের প্রথম বৈঠক। সেই হিসেবে এ বছর ১৭ নভেম্বর ঢাকা উত্তর ও ২০ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ এবং আগামী বছর ৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উপযোগী হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছর ২০ নভেম্বর বা তারপরে তফসিল ঘোষণা করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোট সম্পন্ন করতে পারবে। অবশ্য ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করতে না পারলে সেক্ষেত্রে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়ে মার্চে যেতে হবে। কারণ, জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা চূড়ান্ত হবে ৩১ জানুয়ারি। ফলে এ সময়ে ভোট করতে গেলে নতুন ভোটারদের ভোট দেওয়া না দেওয়ার প্রশ্নে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। আর ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। ডিসেম্বরে ভোট হলে পুরোনো ভোটার তালিকা দিয়ে যাতে ভোট করা যায় সে প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। আর মার্চ-এপ্রিলে ভোট করতে হলে নতুন ভোটার তালিকা দিয়ে ভোট হবে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।

ইভিএমের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত : গত ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কমিশনের ৪৭তম বৈঠকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে তিন সিটি করপোরেশনে একইদিনে ভোটগ্রহণের বিষয়ে কমিশন প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।