দীর্ঘদিন পর বরিশাল নগরীতে ঝরেছে বৃষ্টি। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসের মাঝারি বর্ষণে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে নাগরিক জীবনে। তবে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তুমুল বজ্রপাতে দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। এতে ভোগান্তিতের পড়েছে নগরবাসী।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর থেকে বরিশালে বর্ষণ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থেমে থেমে প্রায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের খবর জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেল ৪টার পর মৌসুমের প্রথম মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে ব্যাপক বজ্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই বরিশাল মহানগরীর বেশিরভাগ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহানগরীর বেশ কিছু শিল্প ও আবাসিক এলাকা অন্ধকারে রয়েছে। পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাতে নগরীর অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ওজোপাডিকোর পরিতোষ চন্দ্র সরকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, মৌসুমের প্রথম বর্ষণে নগরীর অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে আকস্মিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রতিটি এলাকার বিদ্যুৎকর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। ফলে প্রায় ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৮০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট এলাকার লাইনও দ্রুত চালু করতে পুরো টিম মাঠে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বরের পর ১২৭ দিন পরে ৯ মার্চ সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তার এক সপ্তাহের মাথায় সোমবারই মৌসুমের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি বোরোসহ রবি ফসলের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা।
বরিশাল কৃষি অঞ্চলের মাঠে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধান ছাড়াও প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ রয়েছে। চলতি মৌসুমে বরিশালে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টন। বহু কাঙ্ক্ষিত এ বৃষ্টিপাত বোরো জমিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তরমুজের মিষ্টতাও বৃদ্ধি করবে। চলতি মৌসুমে অন্তত ১৩ লাখ টন তরমুজ কৃষকের হাত ধরে বাজারে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
