গ্যাস সংকটে ভারতে টেক্সটাইল শিল্প স্থবির, দলে দলে বাড়ি ফিরছেন পোশাকশ্রমিকেরা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ১৮:১৮

ভারতের ‘বস্ত্র নগরী’ হিসেবে পরিচিত গুজরাটের সুরাট শহরের টেক্সটাইল শিল্প এখন তীব্র সংকটে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর বন্ধ থাকার কারণে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। রান্নার গ্যাস না থাকায় হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কাজ ছেড়ে শহর ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন।

সুরাটের টেক্সটাইল শিল্পের প্রাণ হলো উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওডিশা থেকে আসা লাখ লাখ পরিযায়ী শ্রমিক। কয়েক দিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটে তারা দিশেহারা। অনাহারে থাকা পরিবার ও সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্য তারা কাজ থাকা সত্ত্বেও শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। নাভিশ্বাস ওঠা শ্রমিকেরা দলে দলে সুরাটের উধনা রেলস্টেশনে ভিড় করছেন গ্রামে ফিরে যাওয়ার জন্য।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকের অভাবে অনেক কারখানা ইতিমধ্যে সপ্তাহে এক বা দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। টেক্সটাইল ব্যবসায়ীদের মতে, শ্রমিকদের এই গণপ্রস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানি—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিট ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, আর অনেক বড় কারখানা সপ্তাহে এক বা দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে কাপড়ের চাহিদা বেড়ে গেলে, উৎপাদন বন্ধ থাকায় বাজারে দাম আরও বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

সুরাটের শ্রমিক কলোনিগুলোতে হাহাকার চলছে। এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইনেও অনেকেই সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কালোবাজারে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ২,৫০০ রুপি পর্যন্ত উঠেছে, যেখানে আগে দাম ছিল মাত্র ৫০০ রুপি।

সীমা দেবী নামের এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘সাত দিন আগে আমাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কাঠের চুলায় রান্না করার অনুমতি নেই। জমানো টাকাও শেষ হয়ে আসছে, তাই সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছি।’

ভারতের মোট এলপিজি আমদানির সিংহভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এবং পারস্য উপসাগরে অস্থিরতার কারণে এলপিজি সরবরাহ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভারত সরকার বিকল্পব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও সমুদ্রপথে এলপিজি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সুরাট থেকে শ্রমিকদের এই গণপ্রস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানি—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই সংকটের কারণে সুরাটের শিল্পপতিরা নাজুক অবস্থায় রয়েছেন। তারা এখন সরকারের কাছে বিশেষ জ্বালানি ভর্তুকি এবং দ্রুত এলপিজি সরবরাহের দাবি জানাচ্ছেন। সেখানকার শ্রমিক ও পরিবারগুলো আজ নাভিশ্বাস ও অস্থিরতার মধ্যে জীবনযাপন করছে, যেখানে দিনশেষে নিজেদের বেঁচে থাকা এবং সংসারের জন্য বাড়ি ফিরাই একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস