ক্যাম্পা স ফি চা র

যদি চান্স পেতে চাও...

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৮:১০

 

সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। দু’একেই শুরু হবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ। এইচএসসি পরীক্ষায় কেমন ফলাফল হলো, এমনটি ভেবে বসে থাকার সময় নয়

এখন। এ যেন ‘যার কাছে যা আছে’ তাই নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়ার মতো। বিগত সময়ে দেখা গেছে, জিপিএ কম পেয়েও চান্স মিলেছে অনেকের, আবার অনেকে ভালো ফলাফল করেও চান্স জোটেনি। তাহলে কি এ ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হতে হলে কোনো যাদুবিদ্যা করতে হবে? বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার নানা দিক ও উপায় বের করে লিখেছেন বাংলাদেশ
ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসসি) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী— মোহাম্মদ অংকন

 

 

‘আন্তরিক প্রচেষ্টা ও কঠোর

অধ্যবসায় দরকার’

আরাফাত শাহীন

চতুর্থ বর্ষ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাজশাহী বিশ্ববিদালয়, রাজশাহী

 

একজন শিক্ষার্থীর জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতদিনের জ্ঞানের স্ফূরণ ঘটিয়ে তাকে চান্স পেতে হবে। হাজার হাজার প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মোটেও সহজতর বিষয় নয়। পরীক্ষার পূর্বের এ সময়ে তাই যথাযথ নিয়মে সর্বোচ্চ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। এক মিনিট সময়ও নষ্ট করার উপায় নেই। এইচএসসিতে খারাপ হয়েছে এটা ভেবেও অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কোনো যুক্তি নেই। সবসময় মনে রাখতে হবে, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর অধ্যবসায় ছাড়া ভর্তি পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে চান্স পাওয়া অসাধ্য। আরেকটি কথা, নিজের শরীরকে সুস্থ রাখা বিশেষ প্রয়োজন। কারণ, শরীর না চললে পড়াশোনায় মন বসানো দায় হয়ে পড়বে। পরিমিত পরিমাণ ঘুমেরও প্রয়োজন রয়েছে। নিজেকে বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় বিষয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। ভর্তি পরীক্ষাকে এক প্রকার যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এ যুদ্ধে জয়ী হতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয়েই আসতে হবে। নচেত্ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স যেন দুঃস্বপ্ন মাত্র।

 

 

‘যথাসম্ভব নিজেকে সময়

দিতে হবে’

ইমরান হোসেন সোহান

কৃষি বিভাগ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর

 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার এ সময়গুলোতে যথাসম্ভব নিজেকে সময় দিতে হবে। সময়গুলো অবহেলায় নষ্ট করা যাবে না। আমরা মনে করি, ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে একটি যুদ্ধক্ষেত্র। এ জায়গায় জয়ী হতে হলে শিক্ষার্থীদের ঢাল, তলোয়ার (পড়াশোনা) মজবুত হতে হবে। এজন্য নিজেকে সময় দিতে হবে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবে বাজে সময় কাটানো যাবে না। এতে সহসা বিপত্তি ঘটতে পারে। শেরপা যেমন পর্বতারোহীকে পর্বতের রাস্তা দেখাবে, তেমনি কোচিং গন্তব্য চেনাবে। কিন্তু সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা শিক্ষার্থীকেই করতে হবে। এক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রধান ভূমিকা পালন করবে। মনোযোগ দিয়ে পাঠবইসমূহ বারবার পড়া ও গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো আতস্থ করা জরুরি। বিগত বছরের প্রশ্নের সমাধান করলে প্রশ্নপত্রের ধরন সম্পর্কে জানা যাবে যা বড়ো কাজে দিবে। সর্বোপরি, অদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সবাইকে পড়াশোনায় প্রচুর সময় ব্যয় করতে হবে। শুধু সময়কে কাজে লাগিয়েই ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। 

 

 

‘মূল বইয়ের ওপর অধিক

গুরুত্ব দিতে হবে’

অরিত্র দাস

আইন ও বিচার বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে ভয়ংকর বৈতরণী নদী পার হতে প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে প্রাণপণ। একজন শিক্ষার্থীকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করে তার স্বপ্নের মতোন। এক্ষেত্রে তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারে জানার আগ্রহ, অধ্যবসায়, ধৈর্য এবং নিষ্ঠা। সেইসঙ্গে দরকার একাগ্রতা। মানুষ যখন তার লক্ষ্যের পিছনে, স্বপ্নের পিছনে অন্ধের মতো ছুটে বেড়ায়, তখনই সাফল্য এসে ধরা দেয়। ‘স্বপ্ন সেটা নয় যেটা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’ ভারতের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামের বিখ্যাত উক্তিটি এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভর্তিযুদ্ধে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে নিজের জায়গাটি তৈরি করে নিতে হলে অবশ্যই পড়াশুনার বিকল্প নেই। সিলেবাস অনুযায়ী যা থাকবে, সব পড়ে ফেলতে হবে। শুধু পড়লেই হবে না, মনে রাখতে হবে। আপনি কতটা পড়েছেন, বিষয় নয়, আপনি কতখানি মনে রাখতে পেরেছেন সেটিই হলো বিষয়। মনে রাখার জন্য কৌশল অবলম্বন করে পড়তে হবে। লেকচার শিট, নোট বই, বাজারের বিভিন্ন সস্তা বইয়ের চেয়ে মূল বইয়ের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

 

 

‘শুধু মেধাবীরা নয় পরিশ্রমীরা

বেশি চান্স পায়’

শতাব্দী জুবায়ের

বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা

 

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিঃসন্দেহে কঠিনতর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। চান্সের জন্য দরকার নিয়ম করে পরিশ্রম। ভর্তি পরীক্ষার সময় মোটামুটি সবকিছু থেকে ডিটাচ থাকলে ভালো। তাহলে নিজেকে এককেন্দ্রিক করা যায়। শুধু পড়াশুনায় মন রাখা যায়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। একবার ফেসবুক ব্যবহার শুরু করলে ৩০ মিনিট এমনিই চলে যায়। তখন ব্যবহার ভালোও লাগে। এটি ক্ষতিকর। কয়েক মাস যদি নিজেকে সেইভাবে প্রস্তুত করতে পারা যায়, তাহলেই চান্স পাওয়া সম্ভব। মনে রাখতে হবে, এখানে শুধু মেধাবীরা নয়, পরিশ্রমীরা বেশি চান্স পায়। নিয়ম করে অধ্যবসায় ও পরিশ্রম করলে সবকিছু সহজ হয়ে যাবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, পঠিত বিষয়টি বারবার পড়তে হবে। না হলে কয়েক দিন, মাস পর ভুলে যেতে হবে। ‘আমি  তো সব পারি’ এমন বলে ফেলে রাখা যাবে না। মোট কথা, পড়তে পড়তে সবকিছু আয়ত্তে নিয়ে আসতে হবে। তাহলে আশা করা যায়, পরিশ্রমীদের জন্য সুন্দর ও উপভোগের ক্যাম্পাস জীবন অপেক্ষা করছে।