আফরিন মিম
মৌমিতা মুমু। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে মাস্টার্সে পড়াশুনা করছেন। তিনবছর বয়স থেকেই গান শেখা শুরু। গানের হাতেখড়ি মা-বাবার কাছে। ছয় বছর বয়সে প্রথম স্টেজে ওঠা এবং আট বছর বয়সে ছায়ানটে ভর্তি হয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গান শেখার শুরু। দীর্ঘ নয় বছর মেয়াদী কোর্সে নজরুল সংগীতে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হন। এছাড়া নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে উচ্চতর ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বাবা ছায়ানটের লোকসংগীতের শিক্ষক হওয়ায় আলাদা করে লোকগীতি শিখতে হয়নি তার। বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী হওয়ায় নিয়মিত নজরুল এবং লোকগীতি পরিবেশন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সংগীতমুখী সংগঠন সুস্বরের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আমার রক্তে গান মিশে আছে। তাই গান করার কথা আমাকে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হয়নি। পরিবারের সাপোর্ট, পরিবারের ইচ্ছাতে এতদূর আসা, এমন কি পরীক্ষার সময়ে কোনো শো, অনুষ্ঠান থাকলেও বাধা দেয়া তো দূরের কথা, সেই সময় সর্বাত্মক সাহায্য করতেন তারা পড়া এবং শো-এর সময়ের সমন্বয়ের জন্য। বাবা নারায়ণ চন্দ্রশীল। বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এবং লোকসংগীত শিল্পী। মা নিপা সরকার। পেশায় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। তিন বোনের মধ্যে মৌমিতা বড়ো। ছোটো দুই বোনও গান করে। গান নিয়েই ক্যারিয়ার গড়তে চান কী না এমন প্রশ্নের উত্তরে মুমু বলেন, গানটা আমার নেশা, সুতরাং এটাকে নিয়েই সামনের দিকে আগানোর চিন্তা আছে। গান করতে গিয়ে বিভিন্ন বাধা এবং বিভিন্ন ভালো লাগার স্মৃতি নিয়ে মুমু জানান, ফার্মেসিতে পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চা, নিয়মিত অনুষ্ঠান করতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হতো, ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা যখন পরিচয় করিয়ে দেয় যে এই মেয়েটি আমাদের ক্যাম্পাসের গায়িকা, তখন অন্য রকম এক ভালোলাগা কাজ করে। যারা পড়াশুনার পাশাপাশি গান করতে চায় তাদের জন্য মুমুর পরামর্শ হচ্ছে, আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে মানসিকভাবে যে তুমি পারবে, তোমাকে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারার মানসিকতা রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটা মানুষের নিজের মনের খোরাকের জন্য কিছু করা দরকার। এরই মধ্যে মুমু মিক্সড একটি অ্যালবামে মৌলিক গান করেছেন। মুমুর পরিকল্পনা নজরুল গীতির অ্যালবাম রিলিজ করা।
