বন্যায় দুর্গত পশুদের সেবায় ‘প’

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪৬

>> শাহনেওয়াজ খান সিজু

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে চলছে ভয়াবহ বন্যা। উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রামে ধরলা নদী এবং ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক হতদরিদ্র পরিবার এবং তাদের গৃহপালিত পশু। গত ২৭ জুলাই পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (প) নামে পরিচিত একটি ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলার ডুষমারা থানার ২নং ওয়ার্ডের ৬নং অষ্টমির চরের প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে ৩৫০টি গবাদি পশুর উপযোগী খাদ্য বিতরণ করেছে।

পরদিন ২৮ জুলাই চিলমারির নৌ-ঘাট এলাকায় প্রায় ১০৫টি পরিবারের গবাদি প্রাণীর খাবার বিতরণ করেছে। একই সময় একটি ইমারজেন্সি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৩৫টি অসুস্থ গরু এবং ১৯টি অসুস্থ ছাগলকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় জনগণ জানায়, তারা মানুষের জন্য ত্রাণ কম-বেশি পেলেও কোনো পক্ষ থেকেই অভুক্ত প্রাণীগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা বা মেডিকেল সুবিধা পায়নি। এই বিষয়ে পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় তারা রীতিমতো অবাক হয়েছে। প্রতিবছর বন্যায় সরকার বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে প্রধানত মানুষের উপযুক্ত খাদ্য সামগ্রী ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করতে দেখা যায়। অথচ এই গবাদি প্রাণীরা একই রকম অনাহার এবং নানা রকম রোগে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকে, সেই সঙ্গে এই প্রাণীগুলো বানভাসী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শেষ সম্বল। এ সময় অনেকেই অতি নিম্ন মূল্যে তাদের গবাদি প্রাণী বিক্রয় করে দিতে বাধ্য হন। পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্থপতি রাকিবুল হক এমিল বলেন, ‘চলতি মাসেই বাংলাদেশের প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ পাস হয়েছে। বর্তমানে নিবন্ধিত প্রাণিকল্যাণ সংগঠন বাংলাদেশে রয়েছে। কাজেই, প্রাণিকল্যাণ সংগঠন হিসেবে এই দুর্দশাগ্রস্ত প্রাণীদের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনটির নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু, যেকোনো দুর্যোগে প্রাণীদের বিষয়টি সরাসরি নজরে আনার তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায় না, সেহেতু আমাদের এই ত্রাণ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো সীমিত ত্রাণ সামগ্রী যথোপযুক্ত পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া এবং এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের মানুষ এবং সরকারের কাছে একটি বার্তা পৌঁছানো, মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় বিপদে পড়া প্রতিটি প্রাণির অধিকার রয়েছে সমান সহমর্মিতা পাওয়ার। একই সঙ্গে বন্যা পরবর্তী অভাব কাটাতে এই প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্যও অপরিহার্য। আমরা হয়তো খুব সামান্যই সহযোগিতা করতে পেরেছি, কিন্তু এটি একটি নমুনা হিসেবে নিয়ে ভবিষ্যতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের যশোর কমিটির প্রতিনিধি এস কে আরাফাত এবং দিনাজপুরের প্রতিনিধি আর এইচ তুহিন এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি চিকিত্সক ডা. আব্দুল হাইয়ের সহযোগিতায় পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ভেটেরিনারি শিক্ষানবিশ স্বেচ্ছাসেবকরা এই কাজে সহায়তা করেন। এই জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় তরুণদের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলও ব্যাপক সহায়তা করেছে।